রাজধানীতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই এলাকাবিডিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎসারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারেসবার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জঅরাজগত সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী
No icon

ভালবাসা দিবস উদ্‌যাপন করার বিধান 

আমাল এর সাথে যুক্ত হলো মাজেদা, সে ইয়াহুদ, নাসারাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদ্যাপনের বিধান সম্পর্কে অনেক কিছু জানাল। সে বলল : কিছু সমাজ, যেখানে প্রকৃত মহব্বত ও ভালোবাসা বিরাজিত ছিল, পারিবারিক সম্পর্কে যারা ছিল নিঃস্বার্থ। ডিশ ও ইন্টারনেটের কুপ্রভাবে সে সকল মুসলিম পরিবারের কতক মেয়েরাও পাশ্চাত্য কালচার গ্রহণ করা শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে যারা তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নতি সাধনে সক্ষম হয়েছে এবং যারা ইসলামি সভ্যতায় ঈষৎ অভ্যস্ত। এটা মূলত মানসিক বিপর্যয়ের আলামত। সুতরাং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন প্রতিটি লোকের এ সম্পর্কে সচেতন থাকা অপরিহার্য। কেউ যাতে তাদের তথাকথিত সভ্যতার ধোঁকায় পতিত না হয়।

সাহাবি আবু অকেদ বলেন, রসুল সা. খায়বার যাত্রায় মূর্তি পূজকদের একটি গাছ অতিক্রম করলেন। তাদের নিকট যে গাছটির নাম ছিল ;জাতু আনওয়াত। এর উপর তীর টানিয়ে রাখা হত। এ দেখে কতক সাহাবি রসুল সা.-কে বলল, হে আল্লাহর রসুল, আমাদের জন্যও এমন একটি জাতু আনওয়াত নির্ধারণ করে দিন। রসুল সা. ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, সুবহানাল্লাহ, এ তো মুসা আ.-এর জাতির মত কথা। 'আমাদের জন্য একজন প্রভু তৈরি করে দিন, তাদের প্রভুর ন্যায়। আমি নিশ্চিত, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা পূর্ববর্তীদের আচার অনুষ্ঠানের অন্ধানুকরণ করবে। (তিরমিজি- সহিহ-)

মানুষের অন্তর যদিও অনুকরণ প্রিয়, তবুও মনে রাখতে হবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ বিচারে এটি গর্হিত, নিন্দিত। বিশেষ করে অনুকরণীয় বিষয় যদি হয় আক্বীদা, এবাদত, ধর্মীয় আলামত অথবা জাতীয় কালচার, আর অনুকরণীয় ব্যক্তি যদি হয় বিধর্মী, বিজাতি। আফসোস! ক্রমশ মুসলমান ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসে দুর্বল হয়ে আসছে, আর বিজাতিদের অনুকরণ ক্রমান্বয়ে বেশি বেশি আরম্ভ করছে। স্বকীয়তা ও নিজস্ব কালচার বিনষ্টকারী অনেক প্রথার অনাকাঙ্ক্ষিত ছয়-লাব হয়ে গেছে আমাদের ভেতর। যার অন্যতম ১৪ ফেব্রুয়ারি বা ভালোবাসা দিবস। অথচ এ দিনটি কৃশ্চিয়ান সেন্ট/পাদরি ভ্যালেনটাইনকে অমর করে রাখার উপলক্ষ্য মাত্র। তাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যে এ দিনটি পালন করবে, সে নিশ্চিত ইসলাম বহির্ভূত, কাফের। তাকে স্মরণীয় করার ইচ্ছা না থাকলেও সে জঘন্য অপরাধী।

ইবনে কায়্যূম রহ. বলেন,কাফেরদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তাদের শুভেচ্ছা জানানো একটি কুফরি কাজ। কারো দ্বিমত নেই এতে। যেমন তাদের ধর্মীয় ঈদ, উৎসব ও রোজা উপলক্ষ্যে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা ইত্যাদি বলা। এগুলো কুফরি বাক্য না হলেও ইসলামি দৃষ্টিকোণ হতে হারাম। কারণ, এর অর্থ হল, একজন লোক ক্রুশ, মূর্তি ইত্যাদিকে সেজদা করছে, আর আপনি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এটা একজন মদ্যপ ও হত্যাকারীকে শুভেচ্ছা জানানোর চেয়ে বেশি জঘন্য, আল্লাহর অভিসম্পাদের বড় কারণ। বক ধার্মিক অনেক লোক অবচেতন ভাবেই এ সকল অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, অথচ তারা জানেও না, কত বড় অপরাধ তারা করে যাচ্ছে। বেদআত, আর কুফরে লিপ্ত ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, ধন্যবাদ দিচ্ছে। এভাবেই আল্লাহর গোস্বা আর শাস্তিতে নিপতিত হচ্ছে।

আমাল : মাজেদা, ইসলামের ভেতর একটি বিধান আছে, মুসলমানদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ছেদন' এর সাথে তার ভূমিকা কি ?

মাজেদা : আমাদের পথিকৃৎ সাহাবা, নেককার পূর্ব পুরুষদের এটি একটি বৈশিষ্ট্য। তারা মোমিনদের সাথে সম্পর্ক কায়েম করতেন, কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ছেদন করতেন। সুতরাং যারাই বিশ্বাস করে, 'আল্লহ এক, তিনি ছাড়া কোনো প্রভু নেই, মুহাম্মদ তার রসুল।' তাদের উচিত ও কর্তব্য, মুসলমানদের মুহব্বত করা, কাফেরদের ঘৃণা করা, তাদের সাথে বৈরিভাব পোষণ করা, তাদের আচার অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করা। এতেই আমরা নিরাপদ, এখানেই আমাদের কল্যাণ, অন্যথায় সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপরুন্ত, মুসলমানদের অনুষ্ঠানে একাত্মতা ঘোষণা করলে যেমন মুসলমানগণ খুশি হন, তাদের অন্তর সমূহ প্রফুল্ল বোধ করে। তদ্রুপ কাফেরদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলে তারা খুশি হয়, তাদের সাথে ঋদ্ধতা বাড়ে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন, ও ইমানদারগণ, তোমরা কৃশ্চিয়ান, ইহুদিদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর না। তারা একে অপরের বন্ধু। যে তাদের সাথে মিশে গেল, সে অবাধ্য, তাদেরই একজন। আল্লহ অবাধ্যদের সৎ পথ দেখান না। (আল-মায়েদা : ১৫) আল্লাহ রসুল সা. কে লক্ষ্য করে বলছেন, 
আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কেয়ামতের দিন বিশ্বাস করে, এমন কোনো জাতিকে আপনি তার সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যে আল্লাহ এবং তার রসুলের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। (আল-মুজাদালা : ২২) 
আল্লাহ তাআলা বলেন, 
'যদি তোমাদের আল্লাহ এবং তার রসুলের উপর ইমান থাকে, তবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের বাইরে তোমরা কোনো করুণা দেখাবে না।' (আন-নুর : ২)

তাদের সাথে সামঞ্জস্যের মারাত্মক দিক হল, এর দ্বারা তাদের অনুষ্ঠান প্রচার লাভ করে, প্রাধান্য বিস্তার করে অন্য সব অনুষ্ঠানের উপর। এর দ্বারাই রসুলের সুন্নত মিটে, বেদআতের প্রসার ঘটে। তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। অথচ আমরা প্রতি রাকাতে পড়ি, 
'আমাদের সৎ পথ দেখান, যাদেরকে আপনি পুরস্কৃত করেছেন তাদের পথ, অভিশপ্ত ও বিভ্রান্তাদের পথ নয়।' (আল-ফাতেহা : ৬-৭) 
আমরা কীভাবে এ কথাগুলো বলছি, অথচ স্বেচ্ছায় তাদের অনুকরণ করছি।

আমার কোনো বোন হয়তো বলবে, আমরা তাদের আক্বীদা বিশ্বাস গ্রহণ করি না, শুধু আপোশ মহব্বত, ভালোবাসা তৈরি করার নিমিত্তে এ দিনটি ব্যবহার করি। এটাও এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণা। আমাল এর বক্তব্যে এ সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি, সে আরো জানিয়েছে, কীভাবে এক জন অপরিচিত মেয়ে একজন অপরিচিত ছেলের সাথে মাত্র একটি ফুল বিনিময় করে এ দিনটি উদ্‌যাপন করে। একজন সতী-সাধি পবিত্র মুসলিম নারী মানুষের এ ধরনের নোংরামির সাথে কখনো জড়িত হতে পারে না।
 

এ দিনটি উদ্‌যাপন কোনো স্বভাব সিদ্ধ ও স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। বরং একজন ছেলেকে একজন মেয়ের সাথে সম্পর্ক জুড়ে দেয়ার পাশ্চাত্য কালচার আমদানিকরণ। আমরা সকলে জানি, তারা সমাজকে চারিত্রিক পদস্খলন ও বিপর্যয় হতে রক্ষা করার জন্য কোনো নিয়মনীতির ধার দ্বারে নয়। যার কুৎসিত চেহারা আজ আমাদের সামনে স্পষ্ট। আল্লহর মেহের বাণীতে তাদের কালচারের বিপরীতে আমাদের অনেক আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। আমাদের নিকট 'মা'র আসন অন্য যে কোনো জাতির দৃষ্টি হতে অনেক ঊর্ধ্বে। যে কোনো সময় তাকে উপহার উপঢৌকন দিতে পারি। তদ্রুপ, পিতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-পরিজনদেরকেও। তবে তাদের সাথে এর বিনিময় করব অন্য কোন দিন।

উপহার দেয়া ভাল, এর দ্বারা পরস্পর মহব্বত সৃষ্টি হয়। কিন্তু, এর সাথে কৃশ্চিয়ান কালচার, পাশ্চাত্য সভ্যতার মিশেল, মূলত তাদের সভ্যতা ও জীবন পদ্ধতির আমদানি।
 

মাজেদা : অবশ্য কতক ব্যবসায়ী অন্য আরেকটি কারণে এ দিনটি পেয়ে খুশি হন। তাদের ব্যবসা রমরমা ও জমাট হয়। প্রচুর পরিমাণ ফুল বিক্রি হয়। অসংখ্য কার্ড সেল হয়। যেহেতু তাদের সাথে সামঞ্জস্য বৈধ নয়, তাই তাদের কর্মে উৎসাহ, উদ্দীপনার সৃষ্টি করে, তাদের অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করে, এমন কাজও করতে নেই।

নাওরা অনুশোচনায় মুহ্যমান। হাত প্রসারিত করে ফুলটি সরিয়ে নিচ্ছে। অনুতপ্ত ও কৃতজ্ঞ কণ্ঠে বলল, এ উপদেশটিই আমার প্রয়োজন ছিল। এর দ্বারা আমি দৃষ্টি ফিরে পেয়েছি, কল্যাণের পথ চিনেছি, আল্লহর জন্য মহব্বত ও ভালোবাসা শিখেছি। আল্লাহ আমাদের সে সব লোকের অন্তর্ভুক্ত কর, যাদের ব্যাপারে তুমি বলেছ্তো;যারা আমার জন্য পরস্পর মহব্বত করে, পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ করে, পরস্পর উপহার বিনিময় করে, তাদের জন্য আমার মহব্বত অবধারিত।

আল্লহ তুমি আমাদের জীবনকে প্রকৃত মহব্বত ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ করে দাও। যা আমাদেরকে আসমান-জমিনসম প্রশস্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে সহায়তা করবে। আমাদের স্বতন্ত্র ও ব্যক্তিত্ব তুমি হেফাজত কর। মুসলমানদের সংশোধন সুনিশ্চিত কর।

লেখক:সানাউল্লাহ নজির আহমদ