NEWSTV24
সেনাবাহিনীর হাতেই ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৩৯ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

২৭ বছর ধরে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে সেনাবাহিনী বা ন্যাশনাল বলিভারিয়ান আর্মড ফোর্সেস ছিল হুগো চাভেজ ও তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতার মূল স্তম্ভ। পশ্চিমা গণতন্ত্র থেকে সরে এসে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েমে এই বাহিনী সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের হাতে খোদ সামরিক ঘাঁটি থেকে মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।বিশ্লেষকদের মতে, এখন ট্রাম্পের পরোক্ষ শাসন হোক বা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্ব- ভেনেজুয়েলা চালাতে হলে সেনাবাহিনীর সমর্থন অপরিহার্য। মাদুরোর শাসনামলে সেনাবাহিনী বিপুল ক্ষমতা, মন্ত্রিত্ব ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ভোগ করেছে। বিনিময়ে তারা বিরোধীদের দমন করে সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। তবে মাদুরোকে রক্ষা করতে না পারায় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি এখন সেনাবাহিনীর হাতে। দেলসিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং দেশে গৃহযুদ্ধ বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সামরিক বাহিনীর সমর্থন জরুরি। ট্রাম্প প্রশাসনও রদ্রিগেজের ওপর ভরসা রেখেছে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার যোগাযোগের কারণে।নতুন বাস্তবতায় টিকতে হলে সেনাবাহিনীকে কঠিন শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, মাদক পাচারের অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন তেল চুক্তি মেনে নিতে হবে। তৃতীয়ত, জনগণের ওপর দমন-পীড়ন কমাতে হবে।বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী যদি পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয় এবং রদ্রিগেজ ও ট্রাম্পের সমঝোতা মেনে না নেয়, তবে ভেনেজুয়েলায় আরও বড় মার্কিন হামলার ঝুঁঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব ও দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনীকে এখন স্থিতিশীলতাকারী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।