দক্ষিণ স্পেনে উচ্চগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ৩০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে।রবিবার দক্ষিণ স্পেনে একটি দ্রুতগতির ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্য একটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।সংঘর্ষে দ্বিতীয় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে একটি বাঁধের নিচে পড়ে যায়।রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, কর্দোবা শহরের কাছে আদামুজ এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি উচ্চগতির ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ট্র্যাকে চলে যায় এবং পরে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।দ্বিতীয় ট্রেনটি মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী ছিল।
এদিকে স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এস্পানোলার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী একটি ট্রেনের চালকও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এবং মোট ১০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর।দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কীভাবে এটি ঘটেছে, তা নির্ধারণে তদন্তে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, দেশটি একটি গভীর বেদনার রাত পার করতে যাচ্ছে।মালাগা থেকে যাত্রা শুরু করা ট্রেনটি পরিচালনা করছিল বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও। কম্পানিটি জানায়, ওই ট্রেনে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অপরদিকে, রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন।আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে (১৭:৪০ জিএমটি) মালাগা ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পর দুর্ঘটনাটি ঘটে।নিহত ও আহতদের স্বজনদের জন্য মাদ্রিদের আতোচা, সেভিয়া, কর্দোবা, মালাগা ও হুয়েলভা স্টেশনে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল স্থগিত করা হয় এবং সোমবার পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য টার্মিনালগুলো রাতভর খোলা রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইতালির রেল কম্পানি ফেরোভিয়ে দেল্লো স্তাতোর এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যা সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা (২৫০ মাইল) গতিতে চলতে সক্ষম।২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের গালিসিয়ায় দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছিলেন।