NEWSTV24
নির্বাচনে প্রভাব ফেলবেন অর্ধেক নারী ভোটার
শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:৪১ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ছুটির দিন সকালে ডেমরা-রামপুরা সড়কের আমুলিয়া মেন্দিপুর বাজারে মো. আলমগীরের চায়ের দোকানে আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। টিনের ঘেরা দোকানের বেঞ্চে বসে গল্পে মশগুল কয়েকজন। তাদেরই একজন বলেন, মনে হইতেছে অনেক বছর পর ভোটের আমেজ ফিরা আইছে। প্রার্থীর লোকজন বাড়ি বাড়ি ঘুইরা ভোট চাইতেছে। ধানের শীষের লোকজনকে বেশি দেখা যাইতেছে। আবার হাতপাখার লোকও আমারে ভোট দিতে বলতেছে। তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই পাশে বসা এক বৃদ্ধ বললেন, আরে না, দাঁড়িপাল্লার লোকজনই বেশি দেখা যাইতেছে।গতকাল শুক্রবার ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর একাংশ) আসনে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের এমন আলোচনা। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরেকজন বলেন, এলাকার আওয়ামী লীগের বড় নেতারা পালাইছে। এতদিন নৌকায় ভোট দিছি। এবার এখনও চূড়ান্ত করি নাই।গতকাল এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ ভোটারদের কাছে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের মো. নবী উল্লাহ নবী, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী মো. ইবরাহীমের নামই ঘুরেফিরে আসছে। ইবরাহীম ডেমরার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের কাউন্সিলর এবং এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। নবী উল্লাহ পুরোনো ও পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকায় এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত নাম। অন্যদিকে কামাল হোসেন এবার নির্বাচনে এসে এলাকায় সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

ভোটারদের কেউ বলছেন, লড়াই হবে ত্রিমুখী। কারও মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার। কেউ কেউ বলছেন, ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে হাতপাখার। ঢাকা-৫ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যরা হলেন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) ছড়ি প্রতীকের তাইফুর রহমান রাহী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের শাহিনুর আক্তার সুমি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ছাতা প্রতীকের হুমায়ন কবির, জাতীয় পার্টি-জেপির লাঙ্গল প্রতীকের মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকের গোলাম আজম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মো. সাইফুল আলম।এই আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ১৫ হাজার ৪৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১১ হাজার ৫৩, নারী দুই লাখ চার হাজার ৩৯৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের পাঁচজন। প্রার্থীর কর্মী ও ভোটাররা জানান, মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হওয়ায় ভোটে প্রভাব ফেলবেন তারা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডেমরার বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সমন্বিত পানি নিষ্কাশন দরকার বলে মনে করেন বাসিন্দারা। গ্যাস সংকট ও রাস্তাঘাট বেহাল দশার কথাও জানান তারা। ডেমরা ছাড়াও যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, শনির আখড়া ও কদমতলীর বিভিন্ন এলাকায়ও এসব সমস্যা রয়েছে।বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী বলেন, জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের শিকড় যত গভীর হোক তা নির্মূল করব। জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে গ্যাসের সমস্যা, জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কানের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই আসনে সরকারি হাসপাতাল, কলেজ, স্কুল নেই। এ ছাড়া অনেক সমস্যা রয়েছে। বিজয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধান করব। হাতপাখার প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম বলেন, দায়িত্ব পেলে এই অঞ্চলের গ্যাসের সংকট সমাধানের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।