অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দেশের গর্বিত সন্তান হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তারা দেশে আছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। শপথের দিন তারা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। শপথ অনুষ্ঠানের পর ফেরার সময় ওই গাড়ি তাদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সাংবাদিকদের তুলে ধরেন শফিকুল আলম। এ সময় তিনি এ কথা জানান। এর আগে রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে মহাসাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন একজন। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক বিদায় হবে।