NEWSTV24
লেখক-পাঠক মিলন উৎসব শুরু আজ
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬:৩৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

অপেক্ষার ইতি টেনে লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীদের মিলনোৎসব বাঙালির প্রাণের বইমেলা শুরু আজ। যার নাম অমর একুশে বইমেলা । এই মেলার সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, শহীদদের রক্তস্নাত বর্ণমালা জড়িয়ে রয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইপ্রেমীরা নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মেতে উঠবেন। এদিকে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা।বহুমাত্রিক বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেবেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫।এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বইমেলা পরিদর্শন করবেন।

এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট সংখ্যা ১০১৮টি। তবে এবার মেলায় থাকছে না কোনো প্যাভিলিয়ন। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায়। শিশুচত্বরে অংশ নিচ্ছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ১০৭টি। উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে শিশুচত্বর রাখায় শিশুদের জন্য বই সংগ্রহ হবে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ।খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা-সংলগ্ন স্থানে সুবিন্যস্তভাবে সাজানো হয়েছে। থাকছে নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।বাংলা একাডেমি ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বিক্রি করবে বই। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার স্টল থাকবে মেলার দুই অংশেই।

প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর । পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে।মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ, র;্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বই পাবে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার । শৈল্পিক বিচারে সেরা তিনটি বইয়ের জন্য থাকবে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার । শিশুতোষ গ্রন্থে মানের জন্য দেওয়া হবে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার । স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান পাবে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার । এবার নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার । নতুন অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের মধ্যে গুণগত মানের বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান প্রদান করা হবে।

আজ শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।এবারের আয়োজনকে পরিবেশ-সচেতন জিরো ওয়েস্ট বইমেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট ও খাবারের দোকানপাট, কাপড় ও কাগজের মতো পুনঃব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।বইমেলাকে ঘিরে আয়োজকদের প্রত্যাশা এটি শুধু বই বিক্রির আয়োজন নয়, বরং জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের এক সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম।