পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এ টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তবে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আজ বুধবার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের মধ্যে টিকিট সংগ্রহে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। সকাল থেকে বাস কাউন্টারগুলোতে ছিল বাড়তি ভিড়। যদিও অনেকেই অনলাইনে বাসের টিকিট সংগ্রহেও ঝুঁকছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে অনলাইনে ট্রেনের শতভাগ টিকিট বিক্রি শুরু করায় সেখানেও যাত্রীদের আগ্রহ দেখা যায়।ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছে ভাড়া বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগই নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তারা। আমরাও বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখছি। যে কোনো মূল্যে আমরা এটা প্রতিষ্ঠিত করব।
ঈদ সামনে রেখে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়। আগামী ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যে কোনো দিনের অগ্রিম টিকিট যাত্রীরা কিনতে পারছেন। বাস কোম্পানিগুলো কাউন্টার ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই টিকিট বিক্রি করছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের পছন্দের বাস এবং সময় ও আসন নির্বাচন করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।প্রথম দিনে গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনালসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে ঈদযাত্রায় অগ্রিম টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, এখনও সেভাবে যাত্রীদের চাপ দেখা যাচ্ছে না। ১৫ রমজানের পর থেকে যাত্রীর ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারও শতভাগ অগ্রিম টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে অঞ্চলভিত্তিক ভিন্ন সময় টিকিট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি হচ্ছে। যাত্রীরা রেলসেবা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। তবে টিকিট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক যাত্রী অনলাইনে অপেক্ষায় থাকছেন, যাতে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের আসন নিশ্চিত করা যায়।
রেলওয়ে জানায়, প্রথম দিন মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে আগামী ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট। পর্যায়ক্রমে ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ মার্চ যথাক্রমে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে এবং চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। সে অনুযায়ী ২৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত যাত্রার টিকিট পর্যায়ক্রমে ছাড়া হবে। ফলে আগেভাগেই ঈদযাত্রা ও ফিরতি ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সুযোগ পাচ্ছেন যাত্রীরা।রেলওয়ে জানায়, ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল থাকবে, যাতে যাত্রী পরিবহনে কোনো ঘাটতি না থাকে। এ ছাড়া অনলাইনে টিকিট না পাওয়া যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হবে। এতে হঠাৎ প্রয়োজনেও যাত্রীরা ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটির জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন মঙ্গলবার রাতে জানান, লঞ্চে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট কবে থেকে বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।একই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস-বিষয়ক তথ্যও বুধবার জানা যাবে।
মেট্রোরেল-ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, মেট্রোরেলসহ দেশের সব ধরনের রেলসেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এই সুবিধা কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।ভাড়া ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে বিশেষ অপশন রাখা হবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখালে এই ছাড় পাবেন। এছাড়া ভ্রমণের সময় এবং টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীদেরও সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া কার্ডটি কার্যকর হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি।