NEWSTV24
ব্যাংক-তেলের ডিপো বন্ধ, ঈদের ছুটিতে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৭ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়েই রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ পাম্প ছিল তেলশূন্য। যেসব পাম্পে তেল ছিল, সেখানেও রেশনিং করে বিক্রি করা হচ্ছিল। অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং দেশীয় আতঙ্ক এই দুইয়ের প্রভাবে শুরু হওয়া জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ঈদের আগে কিছুটা কমলেও ছুটির সময় তা আবার তীব্র আকার ধারণ করে।ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা নতুন করে তেল তুলতে পারেননি। ফলে মজুত দিয়েই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। কোথাও কোথাও তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।রোববার ঢাকার শ্যামলী এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরে শেষে একটি পাম্পের লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।মিরপুরের বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, ঈদের দিন কাজের প্রয়োজনে বের হয়ে অন্তত ৮-১০টি পাম্প ঘুরেছেন তিনি। কোথাও অকটেন পাননি। শেষ পর্যন্ত বিজয়সরণীর ট্রাস্ট পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

চট্টগ্রামের অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। যে দু-একটি খোলা ছিল, সেখানে ছিল দীর্ঘ যানবাহনের লাইন। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল করিম বলেন, শুক্রবার দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। এর চেয়ে বেশি দেয়নি।রাজশাহী এলাকায়ও একই চিত্র। তেল কিনতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন বাইকাররা। শহরের কাদিরগঞ্জ এলাকার তানভীর আহমেদ বলেন, আজ (রোববার) তিনটা পাম্প ঘুরে শেষে যেটাতে পেয়েছি, সেখানেও সীমা বেঁধে দিয়েছে।রংপুর নগরীতেও সংকট প্রকট আকার নিয়েছে। সেখানে অনেক পাম্প পুরোপুরি বন্ধ। খোলা পাম্পে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাইকার সুমন মিয়া বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন।দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অকটেনের তীব্র সংকট রয়েছে। দুই একটি পাম্পে ২০০ টাকার সীমায় তেল দেওয়া হচ্ছে।এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বেশিরভাগ পাম্পে তেল নেই। যে দু-একটি পাম্পে আছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে।

তিনি জানান, মূল সমস্যা হচ্ছে পে-অর্ডার সংকট। ব্যাংক বন্ধ থাকায় আমরা পে-অর্ডার করতে পারছি না। পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল তোলা সম্ভব না। তাই চাইলেও পাম্পে সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। ঈদের ছুটির পর সোমবার ডিপো খোলার কথা রয়েছে।নাজমুল হক আরও বলেন, ব্যাংক না খুললে ডিপো খুলে লাভ নেই। পে ওর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল আনা যায় না।আগে সরকারি ছুটির বন্ধে চেকের বিনিময়েও তেল নিতে পারত পাম্প মালিকরা। কিন্তু চেক নিয়ে ঝামেলার কারণে এই সুবিধা তুলে নেওয়া হয়।সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোগান্তি কমেনি। বরং টানা ছুটির কারণে সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেলের এই সংকট সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ লাইন, সীমিত বিক্রি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে অনেকের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়েছে।