NEWSTV24
টিকার মজুত শূন্য, গভীর সংকটে স্বাস্থ্যব্যবস্থা
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দেশে টিকার সংকট চলছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমেছে। এদিকে চলতি মাসে হামে দেশে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও সরকারি হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় মজুত শূন্যে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে টিকার স্বল্পতা ও জনবলঘাটতির কারণে শিশু ও মায়েরা ঠিকমতো টিকা পাচ্ছে না। ফলে শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে অন্য রোগও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’বাংলাদেশ টিকা কর্মসূচিতে সফল দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নিয়মিত টিকাদান এবং বিভিন্ন ধরনের টিকা কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ পোলিও এবং ধনুষ্টংকার নির্মূলে সফল হয়েছে। হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। হামও অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হাম শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল; কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গাফিলতির কারণে একটি সফল কর্মসূচি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

টিকার সংগ্রহ ও বিতরণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্যাভি বাংলাদেশকে টিকা কেনায় আর্থিক সহায়তা দেয়। গ্যাভির স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার নিজাম উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, জনবলঘাটতি, টিকার সরবরাহ ও লজিস্টিক সংকটের পাশাপাশি নিয়মিত টিকা কর্মসূচিতে নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। শহরাঞ্চলে সব জায়গায় টিকা সমানভাবে দেওয়া হয় না। এ ছাড়া কোভিড পরবর্তী সময়ে ড্রপ আউটের কারণে অনেক শিশু প্রথম ডোজ টিকা পেলেও দ্বিতীয় ডোজ পায়নি। এসব কারণে টিকা না পাওয়া মোট শিশু সংখ্যায় অনেক হয়েছে। এরাই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত কিছু ঝুঁকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, আট বছর আগে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। যথাসময়ে টিকা সংগ্রহ করে তা দেওয়া শুরু করব।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের হামের চিকিৎসার জন্য সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ এবং উত্তরাঞ্চলে শিশুদের হাম মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১০ রোগের ৬ টিকার সংকট

দেশে দুইভাবে টিকা দেওয়া হয়। একটি হচ্ছে নিয়মিত টিকা কর্মসূচি। এটি সারা বছর ধরে চলে। এই টিকা দেওয়া হয় মাঠপর্যায়ে। টিকা দেন মাঠকর্মী বা স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোন বয়সে কোন টিকা দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করা আছে।এই নিয়মিত টিকার পাশাপাশি টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়। একটি নির্দিষ্ট বয়সী দেশের সব শিশুকে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়। এই ক্যাম্পেইনের আগে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। এর পাশাপাশি জাতীয়ভাবে ভিটামিন এ এর ক্যাম্পেইনও করা হয়। এসব ক্যাম্পেইনে দাতা সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো যুক্ত হয়। নিয়মিত টিকাদানের সময় বাদ পড়া শিশুরা ক্যাম্পেইনের সময় টিকা নেয়।সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেশে ১২টি রোগ প্রতিরোধে ৯টি টিকা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের দেওয়া হয় সাতটি টিকা। বিসিজি টিকা দেওয়া হয় যক্ষ্মা প্রতিরোধে; পেন্টা টিকা দেওয়া হয় ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে; ওপিভি টিকা দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; আইপিভি দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় পিসিভি টিকা; হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকা এবং টিসিভি টিকা দেওয়া হয় টাইফয়েড প্রতিরোধে।