NEWSTV24
বিদেশে কর্মী পাঠানো ৪২ শতাংশ কমেছে
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত দুই মাসে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানো বিপুল সংখ্যায় কমেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৫১ কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন। আর চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন ৮২ হাজার ৫৬১ জন। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ হাজার ৭৯০ জন বা ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম।২০২৪ সালের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলের তুলনায় ওই সময় প্রায় দ্বিগুণ কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চ এবং এপ্রিল মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন।তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান নয়; বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সিঙ্গাপুরেও কর্মী পাঠানো কমেছে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইনের শ্রমবাজার আগের বছরগুলোর মতো বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রগতি নেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শ্রমবাজারে। কর্মী পাঠানোয় সমঝোতা স্মারক সই হলেও অস্ট্রেলিয়া, গ্রিসের মতো দেশগুলোর শ্রমবাজার খোলেনি।

এ ছাড়া রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ডের মতো ইউরোপের শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। এসব দেশের ভিসা পেতে ভারতের নয়াদিল্লিতে দূতাবাসে যেতে হয় বাংলাদেশিদের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠায় দিল্লি যেতে পারছেন না কর্মীরা। আবার ইউরোপের এই দেশগুলোতে গিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে নিয়োগকারীরা।
ইউরোপের দেশে প্রবেশের পথ হয়ে ওঠায় কিরগিজস্তানের শ্রমবাজারও বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় বন্ধের পথে। বৈধ চাকরি দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারও সংকুচিত হয়েছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য।সরকারের ভাষ্য, বন্ধ শ্রমবাজারগুলো খুলতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী পাঠাতে যোগাযোগ এবং কর্মীদের কাজের ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে একযোগে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সুফল মিলবে। সৌদিনির্ভর বৈদেশিক কর্মসংস্থান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ কর্মী বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র নেন। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ২০৯ জনের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। তা ছিল মোট চাকরির ৬৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে গত বছর এক লাখ সাত হাজার ৬০৩ জন কর্মী গিয়েছেন। কুয়েতে গিয়েছেন ৪২ হাজার ৭৩৮ জন। আরব আমিরাতে ১৩ হাজার ৭৫৪ জন গিয়েছিলেন। জর্ডান যেতে ১২ হাজার ৩২৯ জন কর্মী ছাড়পত্র নেন। সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের (জিসিসি) দেশগুলোতে কর্মী গিয়েছেন ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৫, অর্থাৎ বাংলাদেশি কর্মীর ৭৮ শতাংশের কর্মসংস্থান হয়েছে এসব দেশে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আগ্রাসন শুরু করে। প্রতিরোধে ইরান সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর প্রভাবে দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান কমেছে।গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরব গিয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ১০৪ জন কর্মী। চলতি বছরে একই সময়ে গিয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৭৬ জন। কর্মসংস্থান কমেছে ৫৭ হাজার ২২৮ বা ৫৬ শতাংশ।গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত কাতার গিয়েছিলেন ১৪ হাজার ৫৩২ জন। এ বছর গিয়েছেন চার হাজার ৭২৪ জন। কর্মসংস্থান কমেছে ৬৯ শতাংশ। কুয়েত গিয়েছিলেন তিন হাজার ৫৫৮ জন। এ বছর গিয়েছেন দুই হাজার ৬১৩ জন। কর্মসংস্থান কমেছে ২৭ শতাংশ।তবে যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান এবং আরব আমিরাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সংখ্যার বিবেচনায় তা সামান্যই। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত জর্ডান গিয়েছিলেন এক হাজার ৬২৩ জন। চলতি বছরে একই সময়ে গিয়েছেন এক হাজার ৯৯৯ জন। আরব আমিরাত গিয়েছিলেন ৫৪০ জন। এবার গিয়েছেন এক হাজার ৯৬৭ জন।পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের আগে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি এবং চলতি বছরের একই সময়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় সমান ছিল। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক সংস্থান ছিল এক লাখ ৬০ হাজার ২৯১ জনের। চলতি বছরে গেছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৭২৬ জন। তবে কমেছে সামগ্রিক অভিবাসন। গত বছরের প্রথম চার মাসে বিদেশে চাকরি নিয়ে দেশ ছাড়েন তিন লাখ তিন হাজার ৬৪২ জন। এই সংখ্যা চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দুই লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ জন।