NEWSTV24
তেল নিয়ে এলো জাহাজ, প্রাণ ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত দুই মাসে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েলের) নতুন কোনো চালান আসেনি দেশে। অথচ এই ক্রুড অয়েলই ছিল দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) প্রধান কাঁচামাল।এটি পর্যাপ্ত না থাকায় দেড় মাস ধরে ইআরএলে ব্যবহার করা হচ্ছিল পাইপলাইনে জমে থাকা ডেড স্টক। উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় দুই-তৃতীয়াংশে। ১৩ থেকে দুইয়ে নামিয়ে আনা হয় জ্বালানির ধরনও। এভাবে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার প্রহর গোনা ইআরএল অবশেষে ফিরে পাচ্ছে প্রাণ।সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এমটি নিনেমিয়া গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। জাহাজটি আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল আবার পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে ইআরএল।ইআরএলে পরিশোধনের জন্য আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে এমটি ফসিল নামের আরেকটি ট্যাংকার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে জাহাজটিতে লোড করা হবে ক্রুড অয়েল। এরই মধ্যে জাহাজটি আমিরাতের পথে রওনা দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে চলতি মাসে আসতে পারে এটিও। যদি তা হয় তবে এই মাসে ক্রুড অয়েল আসতে পারে মোট দুই লাখ টন। অথচ দেশে ক্রুড অয়েলের সর্বশেষ জাহাজ এসেছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি।

ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেল সময়মতো না আসায় দেড় মাস ধরে পাইপলাইনে থাকা ডেড স্টক তেল দিয়ে সীমিত পরিসরে সচল রাখা হয়েছিল ইআরএলের উৎপাদন। ইআরএল কর্মকর্তারা বলছেন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের গভীর সমুদ্রের ভাসমান বয়া থেকে মহেশখালীর স্টোরেজ ট্যাংক এবং সেখান থেকে ইআরএল পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনের ভেতরে সব সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল জমা রাখতে হয়।পাইপলাইনের কার্যকারিতা এবং হাইড্রোলিক চাপ বজায় রাখতে যে সর্বনিম্ন পরিমাণ তেল ভেতরে থেকে যায়, তাকেই ডেডস্টক বা তলানির তেল বলা হয়। এই তেল সাধারণত উত্তোলন করা হয় না। জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে এতদিন সেই তেল দিয়ে কোনো রকমে চালু আছে রিফাইনারিটি।বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম মাহমুদুল মালেক বলেন, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজ এমটি নিনেমিয়া ৬ মে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ মে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে ইআরএল।

বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, চলতি মাসের শেষে ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে এমটি ফসিল নামের আরেকটি জাহাজ বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ট্যাঙ্কার জাহাজটি ফুজাইরা বন্দরের পথে রয়েছে।তিনি জানান, ফুজাইরা থেকে ক্রুড লোড করা গেলে তা আর হরমুজ প্রণালি হয়ে আনা লাগবে না। ফুজাইরা থেকে এটি সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আনা যাবে।এমটি ফসিল জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী। এর দৈর্ঘ্য ২৪৯ মিটার, প্রস্থ ৪৪ মিটার এবং ড্রাফট ১৪ দশমিক ৯ মিটার। জাহাজটির ডেডওয়েট এক লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টন। জাহাজটি ২০২৪ সালে নতুন নাম ফসিল ধারণ করে। হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কা থাকায় গত ৫ এপ্রিল সেখানে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ।সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করেছিল এটি। দুই মাস পার হলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ওমেরা গ্যালাক্সি নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার জাহাজ তাদের বাংলাদেশমুখী যাত্রা বাতিল করে। এজন্য ক্রুড অয়েলের সংকট দেখা দেয় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় রিফাইনারিটি।

১৯৬৮ সাল থেকে ইআরএল দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে। তিন থেকে পাঁচ বছর অন্তর পরিশোধনাগারটির পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ (টার্ন অ্যারাউন্ড) করা হয়। তবে অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা কখনও ঘটেনি।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) বছরে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি করতে হয়। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল। এটি দেশের মোট জ্বালানির ৫ ভাগের ১ ভাগ। ইআরএল বছরে যে ডিজেল উৎপাদন করে, সেটি মোট ডিজেলের ছয় ভাগের এক ভাগ।