যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চেইন জন লুইস খরচ কমানো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকসেবা বন্ধের পরিকল্পনা করছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০০ কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে।
জন লুইসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০টি স্টোরে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ডেস্ক এবং ২৫টি শাখার বিশেষায়িত গিফট র্যাপিং সেবা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা ও কেনাকাটার ধরন বিবেচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩৬টি শাখা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ছাঁটাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে কর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে আগামী শরৎকাল থেকেই এসব সেবা বন্ধ হতে পারে।
সেবা বন্ধ হওয়ার পর গ্রাহকরা অনলাইনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্ডার করে তা হোম ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে পারবেন অথবা নির্ধারিত কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
উচ্চমানের গ্রাহকসেবার জন্য যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম রয়েছে জন লুইসের। সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব কাস্টমার সার্ভিসের প্রকাশিত একটি সূচকেও প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষস্থানীয় রিটেইলার হিসেবে স্বীকৃতি ধরে রেখেছে।
তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাংশের কর্মী। তাদের আশঙ্কা, এসব সেবা বন্ধ হলে সাধারণ বিক্রয়কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়বে। বর্তমানে কর্মী সংকটের মধ্যেই বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে তাদের আরও সমস্যায় পড়তে হবে।
একজন কর্মী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সেবা কমে গেলে গ্রাহকদের প্রত্যাশিত মানের সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে জন লুইসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদা ও কেনাকাটার অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং সম্ভব হলে তাদের অন্য বিভাগে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।
এর আগে খরচ কমানোর অংশ হিসেবে জন লুইস পার্টনারশিপ গত বছর প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করেছিল। এবার নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী কাঠামোয় আরও পরিবর্তন আসতে পারে। তথ্যসূত্র: বিবিসি