NEWSTV24
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরাইলে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে হুথিরাও
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ ১৮:২৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি দিয়েছে যে লোহিত সাগরে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আবারও তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হবে। সোমবার হুথিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সংগঠনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে এই ঘোষণা দেন। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান বিমান হামলার কারণে গত আট এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যখন চরম হুমকির মুখে, ঠিক তখনই হুথিদের এই নতুন উসকানি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
হুথিদের নতুন এই হুমকির ফলে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং এই দুই জলপথকে যুক্ত করা সংকীর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ল। এর আগে গাজা যুদ্ধ চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগরে একশরও বেশি হামলা চালিয়ে অন্তত নয়জন নাবিককে হত্যা করেছিল এবং চারটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেসব হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল, যেখান দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি বছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আনা নেওয়া করা হতো।
হুথিরা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত থেকে দূরে ছিল এবং ইয়েমেনকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনাকে প্রাধান্য দিচ্ছিল। তবে চলমান উত্তেজনার মাঝে হুথিরা এবার ইসরাইলের জাফা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইয়েমেনের হুথি নেতৃত্ব, যা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরাইলি শত্রুদের জন্য সামুদ্রিক নেভিগেশন সম্পূর্ণ এবং পরমভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এই বিবৃতি প্রকাশের পর থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো চলাচল আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে’। তারা আরও স্পষ্ট করেছে যে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের এই সামরিক অভিযান প্রতিরোধ অক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন যে বাব আল-মানদাব প্রণালীর বর্তমান নিরাপত্তা দেখে শত্রুদের কোনো ভুল হিসাব করা উচিত হবে না, কারণ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দুটি জলপথই বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে। হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদাব প্রণালী একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।