NEWSTV24
পরিমার্জন হচ্ছে ১৩৩ পাঠ্যবই দুই শ্রেণিতে চার নতুন বই
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইতিহাস, বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ বিভিন্ন বইয়ে নতুন বিষয় সংযোজন ও পুরোনো অংশ পুনর্বিন্যাস করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মোট ১৩৩টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী মাস থেকে ছাপা শুরু হবে।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি বই। আইসিটি বইয়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন অধ্যায় সংযোজন হচ্ছে। নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধ সংযোজন হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের আমাদের স্মরণীয় নেতা অধ্যায়ে বর্তমান চার নেতার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদান যুক্ত হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের মোট ৩৬টি পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে। মাধ্যমিকের মোট পাঠ্যবই ৯৯টি। এর মধ্যে ৯৭টি পরিমার্জন করা হয়েছে। প্রাথমিকের পাঠ্যবই ১৬০ জন বিষয় বিশেষজ্ঞ এবং মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে ২৫০ জন পরিমার্জন কাজে যুক্ত ছিলেন।এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখের বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আট কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং মাধ্যমিক, মাদ্রাসা কারিগরি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩২ কপি বই ছাপানো হবে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বই ছাপার কাজ শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা সমকালকে বলেন, এ পর্যন্ত ১৩৭টি বইয়ের মধ্যে ১৩৩টির পরিমার্জন ও ইনডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ বেশির ভাগ বই এখন মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত। অবশিষ্ট চারটি বই নতুন সংযোজন হওয়ায় সেগুলোর বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আশা করছি, দ্রুত এগুলোর কাজও শেষ হবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, এবার আমাদের মূল তিনটি অগ্রাধিকার গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা। চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, সম্পাদক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ বই প্রস্তুতের কাজে যুক্ত রয়েছেন। প্রতিটি বই একাধিক ধাপে পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা নির্ভুল, মানসম্মত ও সময়োপযোগী বই হাতে পাক।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, বই মুদ্রণের বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। লজিস্টিক পরিকল্পনাও আগেভাগে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো বই পৌঁছে দেওয়া যায়।বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা প্রবন্ধ এনসিটিবির শিক্ষাক্রম উইং ও সম্পাদনা শাখা থেকে জানা গেছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনের অংশ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি জাতির জন্ম ও স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি শীর্ষক দুটি রচনার আলোকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের আমাদের স্মরণীয় নেতা অধ্যায়ে বর্তমান চার নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদান যুক্ত করা হচ্ছে।তবে কথা থাকলেও শরীফ ওসমান বিন হাদিকে এ বছর অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেন, ২০২৭ সালের জন্য প্রাথমিকের বইয়ের সম্পাদনার কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। শরীফ ওসমান বিন হাদির বিষয়টি এবার যুক্ত হচ্ছে না। ভবিষ্যতে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সময় পরিকল্পনা ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের আমরা তোমাদের ভুলব না অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মুগ্ধের পাশাপাশি শরীফ ওসমান বিন হাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা আছে। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।