NEWSTV24
আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাই শেষে ব্যবস্থা
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বলেছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ কিংবা নিম্নমানের ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় মান লঙ্ঘন বা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই এসব কথা জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জনগণকে গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টুথপেস্ট গিলে না ফেলা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিক সত্যনিষ্ঠা ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) সম্প্রতি ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশ করেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করছে সংস্থাটি। এ জন্য ইএসডিওর কাছে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, পরীক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষার র-ডাটা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।বিএসটিআই জানায়, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করবে। পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় যে, কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি বা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংস্থাটি বলেছে, শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।বিএসটিআইর ভাষ্য, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করলেও এর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে মাইক্রোবিড-ফ্রি ওয়াটার্স অ্যাক্ট এর মাধ্যমে টুথপেস্টসহ রিন্স-অফ কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ২০২৭ সালের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে এ ধরনের পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের মান এবং আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী সংস্থা আইএসও ও এএসটিএমের মানদণ্ডে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য এখনো কোনো অভিন্ন পরীক্ষাপদ্ধতি বা গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ হয়নি।

দেশে টুথপেস্টের জন্য বিডিএস ১২১৬:২০১২ মান কার্যকর রয়েছে। সরকারের এসআরও অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স দেওয়ার আগে রাসায়নিক, অণুজীবসংক্রান্ত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। এ মানে টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা রয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উল্লেখ নেই। সনদ দেওয়ার সময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও যাচাই করা হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজনের মাধ্যমে বিদ্যমান মান হালনাগাদ করা হবে।