NEWSTV24
আমেরিকার বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধের কৌশল আরও বিস্তৃত করল চীন
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪৭ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে আমেরিকান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চীনের সর্বশেষ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং তা ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ‘চীনের গৃহীত একাধিক পদক্ষেপ পাল্টা জবাব দেওয়ার কৌশলগত সরঞ্জামের ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে তুলে ধরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা ও আগ্রহ অনেক বেশি স্পষ্ট।’বুধবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার একগুচ্ছ পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ওপর কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, ৭ টি মার্কিন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কিত প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করা।

দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চীনের পাল্টা ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে সংযত। চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের কষ্টার্জিত স্থিতিশীলতাকে চীন মূল্য দেয়।আমরা আশা করি, মার্কিন পক্ষও একই লক্ষ্য নিয়ে চীনের সঙ্গে কাজ করবে।’মন্ত্রণালয় বলেছে, এই পদক্ষেপগুলো সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া, যার মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রম আইনের অধীনে ৪৩টি চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) নতুন চীনা ড্রোন, রোবট ও বিদ্যুৎ ইনভার্টার আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা।

বেইজিংয়ের আইনি কাঠামোর মধ্যে এখন রয়েছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন, অনির্ভরজনক সত্তার তালিকা, বিদেশি নিষেধাজ্ঞা বিরোধী আইন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য আইন। ইনস্টিটিউট ফর চায়না-আমেরিকা স্টাডিজের উর্ধ্বতন গবেষক সৌরভ গুপ্ত বলেছেন, ‘এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে চীনের পাল্টা ব্যবস্থার কাঠামো ও সরঞ্জাম এখন পরিপক্কতা লাভ করেছে।’

বেইজিংয়ের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবহার দেখা যায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে যখন চীন ৭ টি বিরল খনিজ মৃত্তিকা উপাদানের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে এবং বিশ্বজুড়ে কারখানাগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

গত বছরের অক্টোবরে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা একটি বৃহত্তর সংকট এড়াতে সহায়তা করে। ইউএস-চায়না বিজনেস কাউন্সিলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কাইল সালিভান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বেইজিং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাদের কাছে একটি ক্রমবর্ধমান অস্ত্রাগার রয়েছে এবং তারা তা ব্যবহার করতেও প্রস্তুত, তবে একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগও খোলা রাখছে।’সালিভান আরও বলেন, ‘এই বৃহত্তর পদক্ষেপের প্যাকেজ অতীতের কিছু প্রতিক্রিয়ার তুলনায় বেশি পরিকল্পিত ও সমন্বিত। এটি দেখায়, আমেরিকার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পদক্ষেপের জবাবে চীন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে আরও বৈচিত্র‍্যময় কৌশল গড়ে তুলছে।

’দু’দেশের সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার আরেকটি পর্বের সূচনা করেছে, যেখানে ওয়াশিংটন এবং বেইজিং উভয়ই শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং সংস্থাগুলোর উপর বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। এই উত্তেজনা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষই সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রত্যাশিত আমেরিকা সফরের প্রস্তুতিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটানো থেকে বিরত রয়েছে।গুপ্তা উল্লেখ করেছেন যে, চীনের কৌশলগত অস্ত্রাগার এখন আর কেবল প্রতীকী নয়, বরং উদ্দেশ্য সাধনে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘বহু দশক পরেও বিগত অর্ধ-দশক চীনের অর্থনৈতিক রাষ্ট্রনীতির আধুনিক যুগের সূচনাকারী এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’