অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রকৃত উৎস গোপন করে ইউরোপের বাজারে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টার দাবি করেছে, এসব পণ্য অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করছে। প্রতিবেদনটি ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপে পাঠানো প্রায় ৬ হাজার ইসরায়েলি কৃষিপণ্যের চালান বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ইউরোপে পাঠানো এসব চালানের ১৭ দশমিক ২ শতাংশে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারের জন্য পাঠানো চালানের ক্ষেত্রে এই হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
গ্লোবাল ইকোর দাবি, বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে পণ্যের নথিতে ইসরায়েলি ঠিকানা বা পরিচয় ব্যবহার, ভিন্ন ঠিকানা দেখানো এবং ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে বসতির পণ্য মিশিয়ে রপ্তানি করার মতো কৌশলের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খেজুর, কমলা ও অন্যান্য সাইট্রাস ফল, তাহিনি এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্য এভাবে ইউরোপের বাজারে পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব পণ্যের জন্য ইইউ-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
গ্লোবাল ইকোর তথ্য অনুযায়ী, ইইউতে পাঠানো দুই হাজারের বেশি কৃষিপণ্যের চালানের চালানপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে বসতির পণ্যকে ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে দেখিয়ে অগ্রাধিকারমূলক শুল্কসুবিধা নেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। এসব পণ্যের ঘোষিত মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ইউরো।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিতে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যকে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের সমান হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ইউরোপীয় আদালতের একাধিক রায়েও অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে আসা পণ্যের উৎপত্তিস্থল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ভোক্তাদের পণ্যের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া।
এদিকে বসতি থেকে আসা পণ্য ইউরোপের বাজারে কীভাবে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে কয়েকটি দেশ আলাদা পদক্ষেপ নিচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি, কেনা ও বিক্রির ওপর জাতীয় নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করেছে, যা ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
গ্লোবাল ইকো বলছে, বসতির কৃষিপণ্য ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পণ্যের উৎস যাচাই, শুল্কসুবিধা, জৈব সনদ এবং উদ্ভিদস্বাস্থ্য সনদ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক ত্রুটির কারণে এই বাণিজ্য অব্যাহত থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।
প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে গ্লোবাল ইকো ইউরোপীয় দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগও জানিয়েছে। তাদের দাবি, বসতিতে উৎপাদিত পণ্যকে ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে দেখিয়ে ইউরোপের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করতে আরও কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর