NEWSTV24
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়লা সংকটে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি বড় আকার নিয়েছে এবং উৎপাদনে ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।গত কিছুদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সেটিও বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে; কোথাও কোথাও ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে গ্রামের লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে রাজধানীসহ শহরগুলোতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেদের অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে।

তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতেই দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।রাতে সংকট আরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল রাত ১২টায় তিন হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট।এর আগের দিনগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল রাত ১২টায়, লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার রাত ১টায় এযাবৎকালের রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল, তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও লাইনের গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সর্বোচ্চ উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে। গ্যাসে বড় ধাক্কা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায়। মহেশখালীর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। সেখান থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ টার্মিনাল থেকে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়।দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব। তবে পরে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।দেশে গাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট।