NEWSTV24
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ, শুরুতেই আঁটসাঁট বোলিং
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে অবসান হয়েছে ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার। অন্যদিকে, এই ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত এক সময়ের। আগামী ১২ মাসে ২০ কিংবা ২১টি টেস্ট খেলবে তারা।ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায়।পরেরবার কবে অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগ মিলবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এবার দুই ম্যাচে ভালো করলে হয়তো পরের সফরের জন্য প্রায় দুই যুগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।তবে কাজটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ হবে না। প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট হওয়া এবং ইনিংস ব্যবধানে হেরে যাওয়ার ধাক্কা সামাল দিয়ে পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরা কঠিনই হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের জন্য।

একটি জায়গায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমতায় আছে বাংলাদেশ। দুই দলই নিজেদের শেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতে জিতেছে।টস জিতে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর অভিজ্ঞ এই পেসার বলেন, তারা দারুণ রোমাঞ্চিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে এটার অপেক্ষায় ছিলেন।ম্যাচের আগে ধারণা করা হচ্ছিল, টস জয়ী দল ফিল্ডিং নেবে। তবে সেই ভাবনার বিপরীতে গিয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কামিন্স।বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, এখানে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত ও রোমাঞ্চিত।বরাবরের রীতি অনুসরণ করে টেস্টের আগের দিনই একাদশ ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। অনুমিতভাবেই দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টারকে রেখে একাদশ সাজায় তারা।উদ্বোধনে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে আছেন ডারউইনের ঘরের ছেলে জেইক ওয়েদেরল্ড। ডারউইন তথা নর্দান টেরিটরিতে জন্ম ও এখানেই বেড়ে ওঠা একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। গত অ্যাশেজে পাঁচ টেস্ট খেলে স্রেফ একটি অর্ধশতক করলেও দলে টিকে গেছেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে না পারলে নিশ্চিতভাবেই জায়গা হারাবেন তিনি।

দলে জায়গা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আছেন মার্নাস লাবুশেনও। তিনি নামবেন তিন নম্বরে। সবশেষ সাত ইনিংসে তার অর্ধশতক নেই, শতরান নেই ৪০ ইনিংস ধরে। ৩০ টেস্ট শেষের সময় তার গড় ছিল ষাটের বেশি, ৫০ টেস্ট শেষে গড় ছিল পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। এখন তা নেমে হয়েছে ৪৪ দশমিক ৭০। এই সিরিজেও বড় রান না পেলে সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই।বিখ্যাত পেস ত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউড আবার একসঙ্গে নামছেন এক বছরেরও বেশি সময় পর। চোটের কারণে গত অ্যাশেজে একটি টেস্ট মাত্র খেলতে পেরেছিলেন কামিন্স, হেইজেলউড খেলতে পারেননি একটিও। সব ঝামেলা কাটিয়ে তারা ফিরেছেন। অ্যাশেজের মাঝপথে ছিটকে পড়া অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নও ফিরেছেন ফিট ও চনমনে হয়ে।অস্ট্রেলিয়ার একাদশে আছেন ট্রাভিস হেড, জেইক ওয়েডারল্ড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন ও জশ হেইজেলউড।অন্যদিকে, তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে ডারউইন টেস্টে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে আছেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ টেস্টে খেলেননি মিরাজ। প্রস্তুতি ম্যাচে শতরান করা এই অলরাউন্ডার ফিরেছেন একাদশে।প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করা পেসার হাসান মাহমুদের সঙ্গে আছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। জায়গা হয়নি সৈয়দ খালেদ আহমেদের।বাংলাদেশের একাদশে আছেন তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি।নতুন বলে শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং করছেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে বেশ পরীক্ষা নিচ্ছেন তারা, বিশেষ করে জেইক ওয়েডারল্ডকে।৬ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯। ১৫ বলে ৪ রান করে ব্যাট করছিলেন ওয়েডারল্ড। ২২ বলে এক চারে ৮ রানে খেলছিলেন ট্রাভিস হেড।তিন ওভারে ৬ রান দিয়েছেন তাসকিন। চমৎকার কিছু বল করে ওয়েডারল্ডকে ভোগানো হাসান মাহমুদ তিন ওভারে দিয়েছেন ৭ রান।স্বস্তিতে ছিলেন না ওয়েডারল্ড। টাইমিং করতে পারছিলেন না তিনি। একটুর জন্য ব্যাটের কানায় যাচ্ছিল না বল। একবার বল স্টাম্পের একটু ওপর দিয়ে চলে যায়।নবম ওভারে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণে এসে ট্রাভিস হেডকে বেশ ভোগান ইবাদত হোসেন চৌধুরি।তার পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পর্যালোচনা চায় বাংলাদেশ। তবে সেই পর্যালোচনায় ব্যর্থ হয় তারা।পর্যালোচনায় দেখা যায়, বলের আঘাতের স্থান ছিল আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের আওতায়। বল স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনাও ছিল না; সেটি অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যেত।

ওভারটি মেডেন নেন ইবাদত।

৯ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩১।