NEWSTV24
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক, নিহত ৩৮
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলক বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পর্যটন দ্বীপ বালির প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে। পরে একই এলাকায় ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এ ছাড়া শনিবার উত্তর সুমাত্রায় ১৬৩ কিলোমিটার গভীরে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভবনের ধ্বংসাবশেষ ধসে পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।বিএনপিবি জানিয়েছে, সিক্কা প্রদেশে তিনজন, মাংগারাই প্রদেশে ছয়জন এবং পূর্ব মাংগারাই প্রদেশে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্তত দুজন গুরুতর এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। তখন আন্তদ্বীপ ফেরিতে ওঠার জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। জাহাজের সঙ্গে যুক্ত সিঁড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়লে কয়েকজন যাত্রী সাগরে পড়ে যান।

আতঙ্কে ঘরের বাইরে মানুষ

উপকূলীয় সিক্কা এলাকার তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো বলেন, অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের ঘরে ছুটে যান।তিনি বলেন, অনেক মানুষ তখনই পাহাড়ের দিকে চলে গিয়েছিলেন। সাগরের পানি কিছু সময়ের জন্য অস্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে উল্লেখযোগ্য কোনো উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। সতর্কতার সময় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে সরে যান বা অন্যত্র আশ্রয় নেন।আফটারশকের কারণে অনেক বাসিন্দা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। তালিবুরার বাসিন্দারাও বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।রুতেং শহরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া বলেন, তিনি এত বড় ভূমিকম্প আগে কখনো অনুভব করেননি। পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় তিনি রান্নার চুলা ঘরের বাইরে নিয়ে রান্না করেছেন।