NEWSTV24
ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দক্ষিণ আমেরিকার খনিজ তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে তৈরি হয়েছে এক বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে একটি নজিরবিহীন ভূ-রাজনৈতিক ও জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে “বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০০ বছরের জন্য ভেনেজুয়েলার অন্তত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ পাবে—যা দেশটির মোট প্রমাণিত তেল সম্পদের প্রায় ২০ শতাংশ।

চুক্তির মূল দিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা তথ্যানুসারে, ভেনেজুয়েলার ১৭টি প্রধান তেল ক্ষেত্র এখন মার্কিন নিয়ন্ত্রাধীন প্রতিষ্ঠান ‘নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স’ (NABEP) এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল’ (OSC) যৌথভাবে পরিচালনা করবে। এই চুক্তির ফলে চীন, রাশিয়া, ইরান বা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ বা পরিচালনা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৭টি তেল ক্ষেত্র চালুর মাধ্যমে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিনিময়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার জাতীয় অর্থনীতিতে কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার খনিগুলো থেকে উৎপাদন খরচে ২০% তেল কেনার অগ্রাধিকারমূলক অধিকার পেয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার ট্যাক্স বা শুল্ক মুক্ত রাখা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট
মাদুরো পরবর্তী তিন ধাপের (স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক সংস্কার) মার্কিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই চুক্তি অনুমোদন করেছেন। তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে এটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিরোধী দলীয় প্রধান মারিয়া কোরিনা মাচাদোসহ স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর ভেনেজুয়েলার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারকে খর্ব করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন না করে নিজেদের এনার্জি সিকিউরিটি বা জ্বালানি নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনীতিবিদরা।

মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল
এই চুক্তি কেবল জ্বালানি ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তির প্রভাব লাতিন আমেরিকা থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করাই এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।