যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গাজায় যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। শতাধিক মানবিক সহায়তা সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সংগঠন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বলছে, যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমেই সীমিত।সংগঠনগুলো গত শুক্রবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলে, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও আহত করে চলেছে।গাজায় প্রতি ১৩ জনের একজন হতাহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই একজন করে শিশু নিহত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব বলছে, আহতদের ২৪ শতাংশের জখম অত্যন্ত গুরুতর। এদের এক-চতুর্থাংশ শিশু।শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, গাজার অবশিষ্ট কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রোগীর চাপ উপচে পড়ছে। অথচ চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত কমে আসছে। উপত্যকার ৩৬টি হাসপাতালের একটিও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানির তীব্র সংকট চলছে।
জলপাই তুলতে গিয়ে টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত
ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত বুধবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শহর সালফিতের উত্তরে ইসরায়েলি বাহিনী ও পুলিশের সমর্থনে মারদা গ্রামে ঢুকে পড়ে সেটলাররা। তারা ফিলিস্তিনি জলপাই সংগ্রহকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় পিপার স্প্রেও ছোড়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। হামলার সময় তিন ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী।এদিকে শুক্রবার গাজার মধ্যাঞ্চলে আল-মুসাদ্দার, মাগাজি ও বুরেইজ শরণার্থী শিবির এলাকায় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনায় অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।