NEWSTV24
বাজারে ক্রেতা কম, তবুও চড়া নিত্যপণ্যের দাম
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দাই ঢাকা ছেড়েছেন। এতে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। তবে ক্রেতাখরায় চাহিদা কমার পরও কমেনি নিত্যপণ্যের দাম। চাল-ডাল-তেল কিংবা মাছ-মাংস মোটামুটি গত সপ্তাহের মতো কিছুটা চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।ক্রেতাদের অভিযোগ, ছুটির সময়ে বাজার তদারকি ব্যবস্থা ঢিলেঢালা হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। ফলে কম আয়ের পরিবারে খরচের চাপ বাড়ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে বাজারে ক্রেতা অনেক কম আসছেন। বিক্রিও কম। কিন্তু পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় অপরিবর্তিত। চাল, তেল, আটার মতো পণ্যের মিল পর্যায়ের সরবরাহ মূল্য না কমায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, মুদি পণ্যের দাম এক মাস ধরে বাড়তি। সম্প্রতি চালের কেজিতে দুই টাকার মতো বেড়েছে। পূজার ছুটিতে অনেক মানুষ বাড়িতে চলে গেছে। বাজারে কাস্টমার নেই বললেই চলে। তাঁর ভাষ্য, ক্রেতা কম হলেও লোকসান দিয়ে তো পণ্য বিক্রি করা যায় না।

চালের বাজার পরিস্থিতি বদলায়নি। বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতীয় মাঝারি মানের চাল মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৪ টাকা এবং সরু বা মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চায়না ইরি ও গুটি স্বর্ণা জাতের মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। তবে বেশি দাম দেখা গেছে নাজিরশাইল চালের বাজারে। এ জাতের প্রতি কেজি চাল কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আটার দামও চড়া।খোলা আটা কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় আটকে আছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে আটার দাম গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। ময়দার দামও বাড়তি। প্রতি কেজি খোলা ময়দা কমবেশি ৭০ এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।পেঁয়াজও বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভালো মানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। তবে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। আদা-রসুনের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

মোটা মসুর ডাল কেজি ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের ডাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। ছোলার সঙ্গে অ্যাংকর ডালের দরও বাড়তি। বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লার মুদি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে এ জাতের ডালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল। টিসিবির তথ্যমতে, এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দর বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।ব্রয়লার মুরগির বাজার অপরিবর্তিত। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দর নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এলাকাভেদে প্রতি কেজিতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা। তবে ডিমের বাজার কিছুটা কমতির দিকে। ফার্মের প্রতি ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। সপ্তাহ তিনেক আগে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা ছুঁয়েছিল।সবজির বাজার কিছুটা স্বাভাবিক দেখা গেছে। দু-তিনটি ছাড়া বেশির ভাগ সবজি যেমন পটোল, ঢ্যাঁড়শের কেজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। লম্বা বেগুন কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০, উচ্ছে ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৭০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে নতুন আসা দুয়েকটি শীতকালীন সবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। যেমন শিমের কেজিতে খরচ করতে হবে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি কিনতে লাগবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তেজগাঁও এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন শাহ আলম। তিনি বলেন, বিক্রি এখন কিছুটা কম। সবজি বিক্রি না হলে পচে যায়। এতে লোকসান হয়। সে জন্য সবজি কম আনছি।কারওয়ান বাজারে মুদি পণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নুর হোসেন বলেন, বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়লে ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সরবরাহ ভালো কিংবা বাজারে কাস্টমার কম থাকলেও তদারকির অভাবে দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।