NEWSTV24
দুর্নীতির কারিগরে ভরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:১১ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম-দুর্নীতি। শীর্ষপদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকর্তা, এমনকি নিম্নপদের অনেক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও রয়েছে নানাবিধ অপকর্মের অসংখ্য অভিযোগ। এক দশকের বেশি সময় ধরে ঘটছে এসব কা-; হচ্ছে সংবাদ, চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু থেমে নেই এহেন কর্মকা-। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম অ্যানালিস্ট একেএম শামসুজ্জামানকে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে আসে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের থলের বিড়াল; প্রকাশ পায় শীর্ষপদে আসীনসহ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর একের পর এক ন্যক্কারজনক কা-কীর্তি।এ বোর্ডে দুর্নীতির অনেক পথ রয়েছে। এসব পথ বন্ধ করা না হলে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। দায়িত্বশীলদের পদায়নের ক্ষেত্রে ফিটলিস্ট তৈরি করা যেতে পারে। এছাড়া বিচারহীনতা আর বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও দুর্নীতি রোধের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।জানা গেছে, ২০১৭ সালেও মার্কশিট সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে এ কে এম শামসুজ্জামানকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তিনি পুনর্বহাল হন। তাকে স্পর্শকাতর শাখা হিসেবে খ্যাত সার্ভারের সেই পুরনো দায়িত্বই দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ফের সার্টিফিকেট বাণিজ্য শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনি পাঁচ হাজারেরও বেশি সার্টিফিকেট-মার্কশিট বানিয়ে বিক্রি করেছেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি সার্টিফিকেটের বিপরীতে তিনি নিয়েছেন ন্যূনতম ত্রিশ হাজার টাকা।

এর আগে, ২০২০ সালে এই বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোরাদ হোসেন মোল্লার সময়ে পরীক্ষা না দিয়ে পাস করার মতো কেলেঙ্কারিও ঘটে। এরও আগে, ২০১৮ সালে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলায় নাম ওঠে তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের। ২০১৪ সালেও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে ছিল অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ।দেশে কারিগরি শিক্ষার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সাবেক উপাচার্য এম এ কাশেম  বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে দুর্নীতির অসংখ্য সুযোগ আছে বিধায় অনেকে এতে জড়িয়ে যান। নৈতিকতাবোধ বিসর্জন দিয়ে এসবের মধ্যে জড়িয়ে যাওয়া রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নজর দিতে হবে। নৈতিকতাবোধহীনদের পদায়নের কারণেই এত দিনেও কলঙ্কমোচন হয়নি।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক এই চেয়ারম্যান আরও বলেন, বোর্ডে দায়িত্বশীলদের পদায়নের আগে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ফিটলিস্ট করা যেতে পারে। যেমন- অনেক উপসচিব থাকেন সরকারের প্রশাসনে। কিন্তু সবাই কি জেলা প্রশাসক হতে পারেন? নিশ্চয় না; সবাই দক্ষ প্রশাসক হতে পারেন না। এ জন্য সরকার একটা যোগ্যতার সূচক রাখে। ওই সূচকের মধ্য দিয়ে পাস করে জেলা প্রশাসক হতে হয়। এখানেও আমি মনে করি, যোগ্যতার সূচকে পাস করলে বোর্ড চেয়ারম্যান পদে পদায়ন করা উচিত।

তবে এই ধারাবাহিক দুর্নীতির পেছনে প্রতিষ্ঠানে বিচারহীনতা আর বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় বিচারহীনতা আর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের আইনে সোপর্দ করা উচিত।গ্রেপ্তার শামসুজ্জামান প্রসঙ্গে গত ৪ এপ্রিল ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, বোর্ডে সার্টিফিকেট বাণিজ্যে রাঘব-বোয়ালদের নামও আসছে। তিনি জানান, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে শামসুজ্জামান অনেক বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন। শামসুজ্জামানের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, বোর্ডের সবাইকে ম্যানেজ করেই খোদ বোর্ড থেকে তিনি সনদ তৈরির কাগজ বের করতেন।