বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের প্রাক্কালে আয়োজিত এ সভায় ব্যবসায়ী নেতারা এনবিআরকে ১১৪টি প্রস্তাবনা দেন, যার মধ্যে ১৯টি আয়কর, ৪০টি ভ্যাট ও ৫৫টি শুল্ক সংক্রান্ত।
গেল অর্থবছরে ৪৫ লাখ আয়কর রিটার্ন জমা পড়লেও ৩০ লাখই ছিল শূন্য রিটার্ন। অর্থাৎ, মাত্র ১৫ লাখ করদাতা থেকেই প্রকৃত রাজস্ব আদায় হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এভাবে রাজস্ব আদায় করে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই কর হার যৌক্তিকভাবে বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি রেশিও এখনও ৮-৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ। যেখানে উন্নয়নশীল দেশে এটি সাধারণত ১৫ শতাংশের ওপরে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কর ব্যবস্থা অটোমেশনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। এখন এক লাখ ৬০ হাজার ট্যাক্স সার্টিফিকেট অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের যেন অফিসে যেতে না হয়, সে জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করা হয়েছে।
ভ্যাট ও বন্ড সুবিধা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ড সুবিধাকেও পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আগামী বাজেটে ঘাটতি থাকবে। তবে মূল্যস্ফীতি যেন না বাড়ে, সে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক আরোপের প্রভাবে দেশের পোশাক খাত যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বাজেটকে জনবান্ধব করতে সবার মতামত নেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করা হবে। বাজেট প্রণয়নে বিবেচনা করা হবে।
এনবিআর এখন কর ফাঁকি প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রিটার্ন না দেয়া, আয় গোপন করা বা শূন্য রিটার্ন দেখিয়ে সুবিধা নেয়া— এসব কৌশল প্রতিরোধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে।