NEWSTV24
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজ
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:৪৬ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী দেলসি রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে এক বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।২০১৮ সাল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা দেলসি রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনা নিয়ে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের শান্তি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।সংসদীয় অধিবেশনে নিকোলাস মাদুরোর ছেলে উপস্থিত ছিলেন। একই সময় পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে শুনানির সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে থাকা নিকোলাস মাদুরো। দেলসি রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে আদালতে হাজির করা হলে মাদুরো নিজেকে একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট।তিনি নিজেকে অপহৃত ও যুদ্ধবন্দী হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেন। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৭ মার্চ নির্ধারণ করেছেন।উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর একটি বড় মাপের অভিযানের পর নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক সংকট নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা এই অভিযানকে অবৈধ সশস্ত্র হামলা বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ভান্ডার একজন অপরাধীর হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করলে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।তবে দেলসি রদ্রিগেজ তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে তিনি আগ্রহী।