NEWSTV24
নির্বাচনকালীন সরকারে অনভিজ্ঞ মাঠপ্রশাসন
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৪৬ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

নির্বাচনকালীন সরকারের মাঠপ্রশাসনে অনভিজ্ঞতার ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রার্থীদের বৈধতা প্রদান, আচরণবিধি লঙ্ঘনে ব্যবস্থা গ্রহণে অদক্ষতাসহ নানা অভিযোগ আসছে। কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারার ঘটনা ঘটছে রাজনৈতিক সহিংসতা দমনেও। আবার প্রার্থী-প্রতিপক্ষের গ্রুপের মধ্যে সৃষ্ট অরাজকতা দমনেও ব্যর্থতার ছাপ চোখে পড়ছে। এর বাইরেও স্থানীয় ইস্যু সমাধানে অদক্ষতা দৃশ্যমান।সম্প্রতি কারা ফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখা এবং প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া এক কারাবান্দিকে নিয়ে আলোচনা দেশজুড়ে। বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ছিলেন যশোর কারাগারে। গতকাল হাইকোর্ট তাকে জামিন দেয়। এর আগে গত শুক্রবার তার স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বাগেরহাটের পরিবর্তে যশোর জেলা প্রশাসককে আবেদন না করা, বন্ধের দিন থাকার অজুহাত এবং আবেদনের চিঠি না পাওয়াসংক্রান্ত জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হওয়াকে প্রশাসনের অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এটি এক ধরনের অপেশাদার আচরণ। মাঠপ্রশাসনের অনভিজ্ঞতা ও অদক্ষতার ফসলও বটে। যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, কার কাছে কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং প্যারোলের নীতিমালা কী তা সবাই না-ও জানতে পারেন। প্রশাসনের ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য করলে বিষয়টি এতদূর গড়াত না। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ছিল বাঞ্ছনীয়।নির্বাচন সামনে রেখে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পরিবর্তন আনে সরকার। তারা নির্বাচনকালে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। আর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) নতুন। ডিসিদের বেশির ভাগ ২৭ ব্যাচের আর ইউএনও হিসেবে দায়িত্বরতদের বেশির ভাগ ৩৭ ব্যাচের। কিছু আছেন ৩৬ ব্যাচের কর্মকর্তা। মাঠপ্রশাসনের কাজের অনভিজ্ঞতার কারণে নির্বাচনের আগমুহূর্তে তাদের কাজে অদক্ষতা ফুটে উঠছে। যদিও এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ মনে করেন, কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা হয়। অভিজ্ঞ হয়ে কেউ আসে না। মাঠপ্রশাসনের কাজ তদারকি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি দেশের ৮ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বদলি প্রজ্ঞাপনের পরের দিনই গত বুধবার বদলি আদেশে অবমুক্তির তারিখ বা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্তির আদেশ অংশটুকু বাতিল করা হয়। এর পরের দিন গত বৃহস্পতিবার সকালে বদলির আদেশটিই বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ত্রায়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ২২ দিন আগে এমন বদলির নেপথ্য কী ঘটনা থাকতে পারে এমন প্রশ্ন ওঠে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মকর্তারা মাঠপ্রশাসনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। দলীয় নেতাকর্মীরা চাপ দিলে কিংবা অসদাচরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না মাঠপ্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা। নির্বাচনের প্রার্থী বা তাদের অনুসারীরা কর্মকর্তাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শান্তভাবে শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছেন না কেউ কেউ। অনেকের আচরণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রার্থিতা ঘোষণা, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় শতভাগ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারছে না কর্মকর্তারা। নেত্রকোনার কলমাকান্দা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, ফরিদপুরের নগরকান্দা, বগুড়ার ধুনটসহ বেশ ক’টি উপজেলার ঘটনা সম্প্রতি নজরে এসেছে। তবে মাঠপ্রশাসনকে সহযোগিতার বদলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আছে প্রশাসনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও। তিন মাস আগে বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন হওয়া প্রীতিলতা বর্মণকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বদলি করা হয়। বদলির আগের দিন তিনি ধুনট হাসপাতালের সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বদলির বন্দোবস্ত করেন।