NEWSTV24
এজলাস ভাগাভাগি, বসার জায়গা নেই ২৯ বিচারকের
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬:৫৬ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

চট্টগ্রামের দুটি অর্থঋণ আদালতে ৮০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিচার চলছে। নিয়ম অনুযায়ী দুই বিচারকের জন্য আলাদা এজলাস ও খাস কামরা থাকার কথা। কিন্তু এ দুই আদালতের দুই বিচারক একটি খাস কামরায় বসছেন। ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছেন একটি এজলাস। সকালে অর্থঋণ আদালত-২ এর বিচারক এজলাসে উঠে বিচারিক কাজ শেষ করার পর দুপুরে একই এজলাসে ওঠেন অর্থঋণ আদালত-৩ এর বিচারক। কক্ষ সংকটের কারণে এজলাস ভাগাভাগি করে চলছে বিচারিক কাজ।একই অবস্থা চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের ছয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। ৬ যুগ্ম জজ এক এজলাস ও একই খাস কামরা ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ করছেন। সকালে এজলাসে একজন যুগ্ম জজ উঠলে অন্যজন বসে থাকেন খাস কামরায়। তিনি এজলাস থেকে নামার পর অন্য যুগ্ম জজ দুপুরের পর একই এজলাসে ওঠেন। এভাবে গত ছয়-সাত মাস একটি এজলাস ও খাস কামরা ভাগাভাগি করে দুই জজকে বিচারিক কাজ করতে হচ্ছে। কারণ চট্টগ্রামে নতুন ২৯ বিচারকের পদ সৃষ্টি করে বিচারক পদায়ন করলেও তাদের বসার কক্ষ এবং বিচারিক কাজ করার পর্যাপ্ত এজলাস নেই। সংকট রয়েছে খাস কামরারও। শিগগিরই অবকাঠামোগত সংকট থেকে নিস্তার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে আদালত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির জিএএম শহীদুল ইসলাম বলেন, জেলা জজ পদমর্যাদা, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজসহ ২৬টি নতুন আদালত এবং বিচারকের পদ সৃষ্টি করে সরকার। অধিকাংশ পদে বিচারকও নিয়োগ দেওয়া হয়। কক্ষ সংকটের কারণে একটি খাস কামরা ও এজলাস দুজন বিচারককে ভাগাভাগি করে কাজ করতে হচ্ছে। এজলাস ও কক্ষ সংকট কীভাবে নিরসন করা যায়, এর উপায় খুঁজছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. নেছার আহম্মদ বলেন, মহানগর জজশিপে ১৫ বিচারকের এজলাস ও বসার খাস কামরা রয়েছে। এখন ১৯ জন জজ হওয়ায় চার জনের খাস কামরা ও এজলাস সংকট রয়েছে। নেজারতখানা ও লাইব্রেরি ভেঙে একটি এজলাস ও খাস কামরা তৈরি করা হলেও সংকটের সমাধান করা যাচ্ছে না।আইনজীবী জাফর ইকবাল বলেন, বিচারিক কাজে গতি আনতে সরকার নতুন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ। জেলা প্রশাসন ভবনের সামনে টিনশেড বেশ কয়েকটি পুরোনো বিচারিক স্থাপনা খালি পড়ে আছে। সেই টিনশেড স্থাপনাগুলো অস্থায়ী ভিত্তিতে বিচারিক কাজে ব্যবহার করলে সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে।