দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারার হওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়; বরং তা বেকারত্ব কমাতে ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ আয়োজন করে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানা দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। এই ভাষা নিয়ে আমরা গর্বিত। তিনি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ইউনেস্কোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের হেড অব এডুকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা।