NEWSTV24
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে এখনই যা করতে হবে
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৩৫ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ছুটি বাড়িয়ে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ উদযাপিত হতে পারে ঈদুল ফিতর। এর আগের দুই দিন সরকারি ছুটি। ১৭ মার্চ শবেকদরের ছুটি। মাঝে ১৮ মার্চ বন্ধ থাকলে ঈদের আগে চার দিন সময় মিলবে ধাপে ধাপে শহর ছাড়ার। তাতে ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে– এ চিন্তায় ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।ছুটি বাড়লেও ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় রয়েছে সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে। অভ্যুত্থানের পর পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকায় সড়ক-মহাসড়কে চলতে শুরু করে ব্যাটারিচালিত লাখ লাখ রিকশা। এগুলো আর অপসারণ না হওয়ায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার প্রবেশপথে সড়ক দখল, মহাসড়কের পাশে বাজার ও যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, সেতুর টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারণেও দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে ঈদযাত্রায়। ছুটিই ভরসা সড়ক পরিবহন, রেলপথ এবং নৌ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সমস্যাগুলো নজরে রয়েছে। অনিবন্ধিত ও অবৈধ যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মহাসড়কের ওপর বাজারের জটলায় গাড়ি যাতে আটকে না যায়, সে জন্য দখল উচ্ছেদে পুলিশ কাজ করছে। ঈদের আগে ছুটি দুদিন। ১৮ মার্চ ছুটি দিলে চার দিন বন্ধ পাওয়া যাবে। তখন ঈদযাত্রা গত বছরের মতোই নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছি। তাই ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

গত বছর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় ৩১ মার্চ। এর আগে টানা চার দিন ছুটি ছিল। শিল্প কারখানাতেও ছুটি দেওয়া হয় ধাপে ধাপে। এতে সেবারের ঈদযাত্রা ছিল দুর্ভোগমুক্ত। তবে গত বছরেই ঈদুল আজহার আগে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঈদ হয়েছিল ৭ জুন। বাজেটের কারণে ছুটি শুরু হয় ৪ জুন অফিসের পর। মাত্র দুদিন সময় মেলায় ৫ ও ৬ জুন সারাদেশে মহাসড়কগুলো তীব্র যানজট ছিল। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের পথে যমুনা সেতু পার হতেই ১২-১৩ ঘণ্টা লেগেছিল।গত বছরের মতো এবারও রমজানের প্রথম দিন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেকে পরিবার আগেভাগে গ্রামে পাঠিয়ে দেবেন। তাই ভোগান্তির শঙ্কা কম। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা সমকালকে বলেছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা লম্বা ছুটিই একমাত্র ভরসা। ছুটি কম থাকলে দুর্ভোগ এড়ানো যাবে না। সড়ক ভালো, তবুও ভোগান্তি ভয় সওজের তথ্যমতে, সড়ক-মহাসড়কের ৭৫ শতাংশের অবস্থা ভালো। কিন্তু ঢাকা ছাড়তেই ভোগান্তি হতে পারে গাবতলী, সায়েদবাদ, টঙ্গী ও হানিফ ফ্লাইওভারে। গতকাল শুক্রবার গাবতলী, সায়েদাবাদ ও টঙ্গী এলাকায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রবেশপথে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকের ভিড়। এতে বাসের গতি আটকে যাচ্ছে।

গত বছরের দুই ঈদেই ভুগিয়েছে হানিফ ফ্লাইওভার। এ ফ্লাইওভার হয়ে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে ভোগান্তিতে পড়েন। এবারও একই শঙ্কা রয়েছে।
গত ঈদুল আজহায় ৪ জুন শিল্পকারখানায় ছুটির পর ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ঢাকার লোকাল বাস মহাসড়কে নামলে গাজীপুরের চন্দ্রা, চৌরাস্তা এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ হয়। এবারও একই শঙ্কা রয়েছে।সড়কপরিবহন মন্ত্রী বলেন, শেষ সময়ে এসে কারখানা শ্রমিকদের ৩০-৪০ জন মিলে ট্রাক-পিকআপ ভাড়া করে বাড়ির পথ ধরেন। তাদের তো ঠেকানো সম্ভব নয়। আবার সেই ট্রাক-পিকআপ আটকে সড়কের পাশে রাখার মতো জায়গাও নেই। ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিট বাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার পথ চার লেনে উন্নীত হলেও সেতুতে গাড়ি বিকল হয়ে এবারও ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। গত বছর ঈদেও এই ভোগান্তি হয়। সেতুতে গাড়ি বিকল হয়ে ঈদুল আজহায় চরম দুর্ভোগ হয়েছিল।দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) কর্মসূচির আওতায় এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক গত বছর ঈদের আগে চালু হলেও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।