NEWSTV24
Jahangirnagar University জাবি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ১৮:০১ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন জঙ্গলে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, মঙ্গলবার রাত ১১টার পর পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তার বরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, রাত ১১টার কিছু পর ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের একটি সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেসা হলসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি জালসদৃশ একটি বস্তু তার গলায় পেঁচিয়ে পাশের ঝোপঝাড়ে টেনে নিয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

বাংলা বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাফিকুল ইসলাম বলেন, “চিৎকার শুনে আমরা সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল থামিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঝোপের পাশে এক ছাত্রীকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পাই।” পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখাকে বিষয়টি জানালে নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান বলেন, রাত সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান।

তিনি বলেন, “আমরা পুরো এলাকা তল্লাশি করেছি। তবে ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। পরে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করেছে প্রশাসন।”

জেফরুল বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি জালসদৃশ একটি বস্তু ছাত্রীর গলায় পেঁচিয়ে তাকে আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন ঝোপে টেনে নিয়ে যায়।

“ফুটেজের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিকভাবে একজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা ওই ব্যক্তির মুখ দেখতে পেয়েছি। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।