আর মাত্র কয়েক দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা। বিশেষ করে গত ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রেনের ছাদে যাত্রা, অতিরিক্ত ভিড় ও নৌপথে বিশৃঙ্খলায় বহু প্রাণহানির পর এবার সরকার বাড়তি সতর্কতার কথা বলছে। দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে।বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ওই সময় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এবার দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কোরবানির ঈদযাত্রায় সড়কের ধারে অবৈধ হাটবাজার, মানুষের নিরাপত্তাসহ নানা ইস্যু সম্পৃক্ত। দুর্ঘটনা এর মধ্যে অন্যতম। এবার যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করেন কর্মকর্তারা তা দফায় দফায় বৈঠক করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অধিদপ্তর ও মাঠ পর্যায় সর্বত্র নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। কোথাও গাফিলতির প্রমাণ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশবাসী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারবেন।তথ্যমতে, গত ঈদুল ফিতরের সময় বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উৎসবের আগে ও পরে কয়েক দিনে সড়কে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। ক্লান্ত চালক, অতিরিক্ত যাত্রী, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো কিংবা ট্রাফিক নিয়ম না মানার প্রবণতাও দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবছর ঈদের সময় বহু মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন অসংখ্য। ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর, ঢাক-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ প্রতিটি মহাসড়কে খানাখন্দ, অবৈধ বাজার, টোল প্লাজা, বিআরটি লেন, ধীরগতির যানের কারণে যানজট ও ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। এবার ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের সাতটি মহাসড়কে কমপক্ষে ৯৪টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিকল হয়ে পড়া, পশুবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের চলাচলে ব্যবস্থাপনার অভাব, মহাসড়কে পশুর হাট বসানো ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া এবং ভাঙাচোরা অংশ মেরামত না হওয়ায় এসব মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। গত ঈদের দুর্ঘটনার জেরে এবার সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার কথা জানিয়েছে।সওজ বলছে, মহাসড়কের গর্ত মেরামত, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু সংস্কার, টোলপ্লাজায় বাড়তি বুথ চালু এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মহাসড়কে যাতে কোনো যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি না করে, সে জন্য বিশেষ টহল দলও থাকবে।অন্যদিকে বিআরটিএ জানিয়েছে, ঈদ সামনে রেখে ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক ও লেগুনার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। চালকদের লাইসেন্স যাচাই, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তাদের ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য- এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভিড় এড়ানো সহজ হবে। ঝুঁকি নিয়ে পরিবনের ছাদে বা ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দেওয়া থেকে যাত্রীদের বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে। অন্যদিকে চালক যেন নিয়ম মেনে গাড়ি চালান এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে সে দিকে লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে। চালকদের প্রতি পুলিশের আহ্বান হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল পরিহারের। একই সঙ্গে হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।