NEWSTV24
এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ল, প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রে
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ল। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পসহ সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম গতকাল বুধবার বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পেলেও কমিশন সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে বাড়তি চাপের বিপরীতে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে বিদ্যুতের ৫৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি নেমে দাঁড়াবে ৪১ হাজার কোটিতে।

ঘোষণা অনুসারে, দিনে শুধু প্রয়োজনীয় সময়ে একটি লাইট-ফ্যান ব্যবহারকারী গ্রাহককেও আগামী মাসে ৪০ টাকার মতো বেশি বিল দিতে হবে। বাসাবাড়ির অন্য গ্রাহকের খরচ ব্যবহার অনুযায়ী মাসে ৭০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকের খরচ আরও বেশি বাড়বে।গ্রাহক পর্যায়ে গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে এক টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে সাত টাকা থেকে এক টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। শতকরা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ শতাংশ; স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও হাসপাতালে প্রায় ২০ শতাংশ এবং শিল্পে ১৮-১৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি বিদ্যুৎ বিল যা বাড়বে, তার চেয়েও বড় প্রভাব পড়বে পরোক্ষ ব্যয়ে। উৎপাদন ও সেবা খাতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি।

যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছিলেন, আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠলে সরকার ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই লাইনের গ্যাস ছাড়া সব ধরনের জ্বালানির কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়। এপ্রিলে এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়। এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হলো।কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলোর কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সেগুলো বন্ধের দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলো। এর প্রভাব সবখানেই পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে।বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাজেটের আগে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

খুচরার গড় দামে গরমিল

সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই সময় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্যহার ছিল আট টাকা ৯৫ পয়সা। গতকালের ঘোষণার সময় তা ধরা হয়েছে ৯ টাকা ১১ পয়সা। যদিও এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি বিইআরসি। তবে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আগে বিইআরসি শুধু এনার্জি রেটের গড় হিসাব করে গ্রাহক পর্যায়ে গড় মূল্যহার নির্ধারণ করা হতো। তবে এবার এনার্জি রেটের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট আয়ের ওপর গড় মূল্যহার হিসাব করা হয়েছে। এ জন্য গড় মূল্যহার ১৬ পয়সা বেড়েছে।

প্রান্তিক মানুষের খরচ বাড়ল

গ্রাহক পর্যায়ে লাইফ লাইন বা প্রান্তিক মানুষের বিদ্যুতের দামও এবার বাড়ানো হয়েছে। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সারাদেশে মোট গ্রাহকের একটি বড় অংশ লাইফ লাইন গ্রাহক। সরকার প্রান্তিক মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সারাদেশে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে গ্রামীণ জনপদে, অর্থাৎ পল্লী বিদ্যুতের সমিতিগুলোতে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ রয়েছে।