NEWSTV24
মার্কিন সর্বাধুনিক নৌবহর অগ্নিকাণ্ড ও প্রযুক্তিগত ত্রুটিযুক্ত
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:২৯ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

সম্প্রতি চীনের একটি সামরিক সাময়িকী আমেরিকার নৌবাহিনীতে ধারাবাহিক অযুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তুলে ধরেছে। ‘ন্যাভাল অ্যান্ড মার্চেন্ট শিপস’-এর মে সংখ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে অগ্নিকাণ্ড, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং প্রপালশন সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, এই সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে মার্কিন বহরের প্রস্তুতি সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং দেশটির নৌ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে।

প্রতিবেদনের অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক মোতায়েন, ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা অত্যাধুনিক জাহাজব্যবস্থা এবং পরিজালনা ও অভিযানগত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাওয়া রক্ষণাবেক্ষণ সম্পদ এসব সমস্যার পেছনে কাজ করছে। সাময়িকীটির মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কারিগরি ত্রুটি নয়; বরং এগুলো দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতিকে প্রভাবিত করা বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক চাপের প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটিতে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী, ইউএসএস জুমওয়াল্ট ডেস্ট্রয়ার, নিমিৎজ-শ্রেণির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডুয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার এবং আর্লি বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস হিগিন্স-এর প্রযুক্তিগত সমস্যার উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মোতায়েন, উন্নত প্রযুক্তির ওপর অতিনির্ভরতা এবং অপর্যাপ্ত জাহাজ মেরামত অবকাঠামো এসব পুনরাবৃত্ত সমস্যার মূল কারণ।

চীনা সাময়িকীটির মতে, রক্ষণাবেক্ষণের বকেয়া কাজ, পুরোনো মেরামত পরিকাঠামো, সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতা এবং সরঞ্জাম নেটওয়ার্কের ওপর বাড়তি চাপ অযুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এতে বলা হয়েছে, এই চাপগুলো নৌবহরের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দিতে পারে, কারণ ওয়াশিংটন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ জুড়ে একাধিক নিরাপত্তা দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি একটি ব্যাপক বৈশ্বিক নৌ উপস্থিতি বজায় রাখছে।

.সাময়িকীতে চীনা বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, রক্ষণাবেক্ষণের বিলম্বিত সময়সূচী এবং দক্ষ জাহাজ মেরামতকর্মীর ঘাটতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নৌবহরের কার্যক্ষমতার জন্য একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নৌবহরের কার্যকারিতার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

সাময়িকীটির মে সংখ্যার প্রতিবেদনে উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘এর মাধ্যমে প্রতিফলিত সাধারণ অন্তর্নিহিত সমস্যাটি হলো সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতিগত চাপ ও ঘাটতি।’ ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই সমস্যাগুলো যা অ-ুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে ক্রমাগত নৌবহরের যুদ্ধ সক্ষমতা ক্ষুণœ করছে।’

.এ মূল্যায়ন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বের নৌশক্তিগুলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি টেকসই যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ কার্যকর রাখতে উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, শক্তিশালী লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং নির্ভরযোগ্য শিল্পভিত্তি সমানভাবে অপরিহার্য।
চীনা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সুসংগঠিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা, কার্যকর সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জাহাজ মেরামত সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদি নৌক্ষমতার মূল ভিত্তি।

এই প্রেক্ষাপটে চীন নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ, সমন্বিত রসদ ও সরঞ্জাম ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গণমুক্তি ফৌজের নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন আরও এগিয়ে নিয়েছে। দেশটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী বহরে যুক্ত করার পাশাপাশি সহায়ক অবকাঠামো ও শিল্প সক্ষমতা সম্প্রসারণ করেছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।

চীনা বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে শিল্পগত স্থিতিস্থাপকতার সমন্বয় চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করেছে। তারা যুক্তি দেন যে, যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম, রসদ ও সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মী প্রশিক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাপক শক্তি উন্নয়ন চীনের সামুদ্রিক কৌশলের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌশক্তির ক্রমবিকাশমান ভারসাম্যকে রূপদানকারী একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।