NEWSTV24
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে এরদোয়ানের তাজা গুলি ও রিভলভার উপহার
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:৫৮ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের এক ফাঁকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে একটি ব্যক্তিগতকৃত রিভলভার ও তাজা গুলি উপহার দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। উপহার হিসেবে পাওয়া অস্ত্রটির গায়ে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নাম খোদাই করা ছিল। মূলত ন্যাটো সম্মেলনে আমন্ত্রিত প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকেই এরদোয়ান একই ধরনের স্মারক উপহার হিসেবে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

উপহার হিসেবে রিভলভার পেলেও সেটি যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের আইনি বাধা। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান কঠোর অস্ত্র আইন অনুযায়ী, কার্যক্ষম আগ্নেয়াস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্রের অংশবিশেষ দেশে আমদানি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ব্যক্তিগতভাবে ওই রিভলভারটি নিজের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে আনতে পারেননি। বর্তমানে অস্ত্রটি তুরস্কেই অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এটি যুক্তরাজ্যে পাঠানোর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্ক্রিয় (ডিকমিশন) করা হবে, যাতে এর গুলি ছোড়ার সক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এটি রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিলেও যুক্তরাজ্যের আইন রক্ষার খাতিরেই অস্ত্রটিকে আপাতত তুরস্কে রাখা হয়েছে।

অস্ত্র উপহারের বাইরেও সম্মেলনে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। আঙ্কারা সম্মেলনে স্যার কিয়ার স্টারমার ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান দুই দেশের নিরাপত্তা স্বার্থে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানসহ একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সম্মেলনে ইউক্রেন ও ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

.

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল স্যার কিয়ার স্টারমারের অংশগ্রহণে শেষ বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত সফল একটি সম্মেলন। আমরা যে ঐক্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম, তা পূরণ হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এই ঐক্য এখন অপরিহার্য।”