NEWSTV24
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৬ অপরাহ্ন

NEWSTV24

ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তাঁর নতুন দল ‘ইয়াশার’ সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে পেছনে ফেলেছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে আইজেনকোটের উত্থান ঘটছে। ২০২৫ সালে তিনি ‘ইয়াশার’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাস যোদ্ধাদের ইসরায়েলে হামলার পর দেশটিতে যে যুদ্ধ ও সহিংসতা শুরু হয়, তা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ভোটাররা ওই হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাফল্য-ব্যর্থতা বিবেচনা করেই ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ আসনের নেসেটে আসন পাওয়ার সম্ভাবনায় নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে আইজেনকোটের ইয়াশার। জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশার ২৩টি এবং লিকুদ ২২টি আসন পেতে পারে। একই জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা আইজেনকোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে উপযুক্ত মনে করেছেন ৩৪ শতাংশ।

আইজেনকোটের রাজনৈতিক অবস্থানও অবশ্য ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর। হামাসের হামলার পর ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। শত্রুপক্ষের হামলার তুলনায় আরও শক্তিশালী ও ব্যাপক সামরিক জবাব দেওয়ার নীতির পক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছেন।

আইজেনকোট তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ১০ দফা কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করছেন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইজেনকোট। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার বিষয়ে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। ওই হামলার পরই গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়।

হামাসের ওই হামলার আগে ও পরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মূল্যায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবিতে ইসরায়েলে কয়েক দফায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভও করেছেন।

তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এর পরিবর্তে এমন একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার সদস্য নির্বাচন করবেন রাজনীতিকেরা। এ ছাড়া আইজেনকোট ‘নতুন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তানীতি’ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর লক্ষ্য হবে সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা এবং ইসরায়েলের সীমান্তনিরাপত্তা জোরদার করা। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আইজেনকোটের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তথ্যসূত্র: এএফপি