বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি. নং বি-২২২৩)-এর ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬ এর সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমেদ, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আমীরে জামায়াত এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান, সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, উপস্থিত ডেলিকেটদের সর্বসম্মতিক্রমে
কবির আহমদ কে সভাপতি, এবং সেলিম পাটোয়ারী কে সাধারন সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির নাম ঘোষণা করেন, এবং উপস্থিত ডেলিকেটেরা হাত উঁচিয়ে তাতে সমর্থন জানায়, সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি লোকমান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাশার, ঢাকা উত্তর অঞ্চল সভাপতি মনসুর আহমেদ,কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মানবিক ড্রাইভার মহিউদ্দিন রিপন, কুমিল্লা অঞ্চল সভাপতি তুললা পাটোয়ারী, পরিবহন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি কামাল উদ্দিন রায়হান, মহানগরীর দক্ষিণের সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ,
প্রোগ্রামের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মোঃ বেলাল হোসেন,
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন , জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে দেড় হাজারেরও বেশি শহীদকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। জুলাই গণআন্দোলনে ড্রাইভার, হেলপারসহ পরিবহন খাতের ৪০ জনেরও বেশি শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। তাঁদের প্রতিও আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
তিনি বলেন, সংগ্রামী ভাই ও বন্ধুগণ, আজ বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবহন খাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পরিবহন শ্রমিকরা। দেশে প্রায় এক কোটিরও বেশি পরিবহন শ্রমিক নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
তিনি বলেন, আইনে একজন শ্রমিকের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা নির্ধারিত রয়েছে। ১৯৮৩ সালে পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার বিবেচনায় আইন প্রণয়ন হলেও আজও সেই অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে ৮৬ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন। অথচ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করালে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাহলে শ্রমিকরা কেন ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন—এর জবাব সরকারের কাছে চাই।
শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত একদিন টানা ২৪ ঘণ্টার বিশ্রামের বিধান থাকলেও ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিবহন শ্রমিক সেই ছুটি পান না। দূরপাল্লার যানবাহনের ৫০ শতাংশের বেশি চালক ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং অর্ধেকেরও বেশি চালক বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই কোনো তদন্ত ছাড়াই এককভাবে পরিবহন শ্রমিকদের দোষী করা হয়। অথচ একটি দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালক নয়, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের অবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের দায়ও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা না করে সব দায় পরিবহন শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।
তিনি পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তির বিধানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারায় শ্রমিকদের শাস্তির যে বিধান রাখা হয়েছে, তা একটি ‘কালো আইন’। পরিবহন শ্রমিকদের মাথার ওপর সবসময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভয় ঝুলিয়ে রেখে তাঁদের কাছ থেকে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা আশা করা যায় না। এই কালো আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করতে হবে। যানবাহনের ফিটনেসজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে মালিককে, সড়কের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এককভাবে পরিবহন শ্রমিকদের আসামি করা চলবে না।
পরিবহন খাতে মাফিয়া চক্রের দৌরাত্ম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ দেশে সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু মাফিয়া চক্র সব সময় ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে যায়। টার্মিনাল দখল, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সেক্টরকে কেন্দ্র করে আবারও দখল-বাণিজ্যের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু এটি ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ। আমরা আর কোনো মাফিয়া চক্রকে পরিবহন সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে দেব না।