NEWSTV24
রপ্তানি বাড়াতে বাণিজ্য চুক্তির দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এসব চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় ঘনিয়ে আসায় সরকার এখন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সর্বশেষ নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের নভেম্বর। তবে সরকার এ সময়সীমা অন্তত তিন বছর বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৯ মেয়াদের জন্য স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে টেকসই, মসৃণ ও স্থিতিশীল উত্তরণ শীর্ষক একটি জাতীয় পথনকশার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রস্তুতির পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি নতুন এফটিএ, সিইপিএ বা ইপিএ স্বাক্ষর করা।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা আর থাকবে না। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে দেশীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সরকার দ্রুত বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোচ্ছে।সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী কিছুদিনের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু হবে।

জাপানের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি

গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে জাপানের এক হাজার ৩৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাবে। সরকারের আশা, এ চুক্তির মাধ্যমে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দরকষাকষি শেষ

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে দরকষাকষিও শেষ হয়েছে। এখন দুই দেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের পর চুক্তি স্বাক্ষর হবে। প্রায় এক বছরের আলোচনা শেষে গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এ-সংক্রান্ত কার্যপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরে যৌথভাবে বিষয়টি ঘোষণা দেন দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, ওষুধসহ মোট আট হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, যন্ত্রাংশসহ এক হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশে একই ধরনের সুবিধা পাবে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সিইপিএ শুধু পণ্যের শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সেবা, প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব, ডিজিটাল বাণিজ্য, সরকারি ক্রয়, কাস্টমস সহযোগিতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।