NEWSTV24
১৫৩ বেসামরিক হত্যা ইয়েমেনে ১৫৩ বেসামরিক হত্যার দায় স্বীকার পেন্টাগনের
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৭ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানে ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। 

সোমবার মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির কাছে পাঠানো ১২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে গত বছরের এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে চালানো তিনটি পৃথক হামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। পেন্টাগনের মূল্যায়নে এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে মার্কিন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ১৭ এপ্রিল রাস ইসা বন্দরে চালানো হামলায় নিহত হন ৮০ জন। এরপর ২৮ এপ্রিল সাদা এলাকায় আরেকটি হামলায় ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। তিনটি ঘটনায় মোট ১৫৩ জন নিহতের পাশাপাশি ২৪৩ জন আহত হয়েছেন।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ‘সম্ভাব্যতার বিচারে বেশি’ বলে মূল্যায়ন করেছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ১৫টি ঘটনা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব পর্যালোচনা শেষ হলে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

রাস ইসা বন্দরে হামলাটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি। ১৭ এপ্রিলের ওই হামলায় ৮০ জন নিহতের পাশাপাশি ১৭১ জন আহত হওয়ার কথা পেন্টাগনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ২৮ এপ্রিলের হামলায় নিহত ৬৮ জনের মধ্যে আটক আফ্রিকান অভিবাসীরাও ছিলেন।

২০২৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ৫৩ দিন ধরে চলে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলা বন্ধ করা এবং সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা কমানো ছিল ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য। তবে ওই অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলে আসছিলেন।

পেন্টাগনের নতুন মূল্যায়ন সেই বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব সামনে আনল। তবে বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার হিসাবের সঙ্গে সরকারি সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের সামগ্রিক মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিয়ে আরও তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি রয়েছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স