সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫০০ এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর এই সারসংক্ষেপ আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে। আজ বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ম থেকে ৯ গ্রেড পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর ১০ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব অর্থ বিভাগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরাসরি উপস্থাপন করতে পারে। এ জন্য এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অর্থ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি।তবে গত দুইদিন ধরে গভীর রাত পর্যন্ত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে কাজ করেছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন, পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হতে পারে।
আজ প্রায় ১৯ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভায় পড়ে শোনানো হতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে ভেটিংয়ের (যাচাই বাছাই) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে অর্থ বিভাগ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি চার মাস পর্যালোচনা শেষে ১২ আগস্ট চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। এর মধ্যে ৬ আগস্ট জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিব কমিটির এক সদস্য রোববার বলেন, কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। আমরা জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সবার বিষয়ে সুপারিশ করেছি।
তিনি বলেন, এরপর জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের চাপে নতুন আরেকটি কমিটি করা হয়। তবে মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি আমাদের সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়ে একটি বৈঠক করে নতুন বেতমকাঠামো সুপারিশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। কাল (আজ) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে স্কেলের ঘোষণা আর আসেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতনের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যে পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে।সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ১৭ আগস্ট জনগণের সরকারের ১৮০ দিন শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই বইয়ে নবম পে স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন।এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।সর্বশেষ নতুন বেতনকাঠামো সংক্রান্ত সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না, কিছুটা কমবেশি হচ্ছে।