NEWSTV24
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে সপ্তাহ ধরে আগুন জ্বলছে
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪০ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইন্দোনেশিয়া ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে। দেশটির কিছু এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে আগুন জ্বলছে। এতে সংক্রমিত হচ্ছে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন। দাবানলের জন্য কেউ কেউ দয়াক সহ বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীকে দায়ী করছেন। তবে ওই সম্প্রদায় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ কালিমানতান এবং সুমাত্রার লাখ লাখ মানুষ এসব দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়াশায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনও। ইন্দোনেশিয়ায় হাজার হাজার মানুষ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ঘন ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়ায় মেঘ তৈরি করে বৃষ্টিপাত ঘটানোর কার্যক্রম এবং অগ্নিনির্বাপক উড়োজাহাজ পরিচালনাও জটিল হয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কালিমানতানের পূর্বদিকে অবস্থিত সুমাত্রার পালেমবাং শহরের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আকাশ থেকে দেখা যায়, পালেমবাংয়ের বিশাল আমপেরা সেতু এবং একটি লাইট রেল ট্রানজিট স্টেশন ঘন ধোঁয়াশার আড়ালে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে।

শত শত বছর ধরে কালিমানতানের বিভিন্ন সম্প্রদায় কৃষিকাজের জন্য জমি পরিষ্কার করতে ছোট আকারের নিয়ন্ত্রিত আগুন ব্যবহার করে। তারা গাছপালা কেটে ফেলেন। নিয়ন্ত্রিতভাবে সেগুলো পোড়ান এবং ছাইকে মাটির উর্বরতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে ব্যবহার করেন। পশ্চিম কালিমানতানের দয়াক কানায়াতন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই পদ্ধতিকে ‘উমা বুকিত’ বা পাহাড়ি কৃষি বলা হয়। সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি টোনোর মতে, এটি কেবল কৃষিকাজ নয়; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্য। সাধারণত জমির আকার ছোট হয়- দুই হেক্টরেরও কম। জমি পরিষ্কার করার আগে কৃষকদের প্রচলিত রীতিনীতি পালন করতে হয়।

টোনো বলেন, এই প্রথার মূল ভিত্তি হলো প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কয়েক বছর চাষাবাদের পর কৃষকরা অন্য এলাকায় চলে যান এবং আগের জমিটিকে স্বাভাবিকভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেন। বড় আকারের বন দাবানলের জন্য তাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতিকে দায়ী করার অভিযোগ আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। টোনো বলেন, দয়াক সম্প্রদায়গুলোকে প্রায়ই বলির পাঁঠা বানানো হয়, যদিও তারা ব্যাপক পরিকল্পনা ও সতর্কতার সঙ্গে জমি পরিষ্কারের কাজ করে।

১৯৮২ ও ১৯৯৭ সালের বড় দাবানলের ঘটনাগুলো নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, কালিমানতানে পরিচালিত শিল্পকারখানা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই ছোট কৃষক ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর দায় চাপিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে ভূমি ও বন দাবানলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৫০ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে ১২ হাজারের বেশি শিশু, যাদের বয়স পাঁচ বছরের কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোতে শত শত স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাস্ক ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তাও বিতরণ করা হচ্ছে। এদিকে প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায়ও দেশজুড়ে বায়ুর মানের অবনতি হওয়ায় হাঁপানি ও চোখের প্রদাহের ঘটনা বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে।