NEWSTV24
বিরোধীদলীয় হুইপ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে: বিরোধীদলীয় হুইপ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৩ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের হুইপ ও সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু বাস্তবে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি কর্মকমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সেই রায় মানে না। এখন তারা বলছে, নির্বাচন আদায়ের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম; গণভোট দেওয়া তাদের পরিকল্পনায় ছিল না।’

তিনি দাবি করেন, গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সেব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গণভোটের রায় না মানা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গুম ও খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর একটি ছিল গুম ও খুন কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। তিনি অভিযোগ করেন, আইন পরিবর্তন করে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পুলিশই তদন্ত করবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। এতে মানুষ অভিযোগ করতেই ভয় পাবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবার স্বৈরশাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই সময়ে বাংলাদেশ ইসলাম ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষকদের একটা বড় অংশ শুধু রাজনীতি করে বেড়ায়, কোন ছাত্র কোথায় কি করে এবং ভবিষ্যতে কি করবে বা তাকে কোনো বিষয়ে কাউন্সিলিং করা দরকার কি না এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষদের খুব একটা ভাবতে দেখা যায় না।’

চাকরির ১১-২০ গ্রেডের ভাইভার নাম্বার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে যখন দুইশত নম্বরের ভাইবা দিতে গিয়েছে তখন একটা ছাত্র লিখিততে অনেক কম নাম্বার পাওয়ার পরেও ভাইবাতে তাকে ১৯০ নাম্বার দিয়ে প্রশাসন বা পুলিশ ক্যাডারে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু একজন ছাত্র লিখিততে অনেক ভালো নাম্বার পাওয়ার পরেও ভাইবাতে তাকে উল্টো পাল্টা প্রশ্ন করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে যে ছেলেটার প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার কথা সে ভাইবাতে কম নাম্বার পাওয়ার ফলে চলে গেছে শিক্ষা ক্যাডারে অথবা নন-ক্যাডারে। আজকে আমি এই প্রোগ্রাম থেকে বলতে চাই, পিএসসির সকল পরীক্ষায় ভাইবাতে ৫০ নাম্বারের অধিক থাকাই যাবে না, পিএসসির গঠনমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। বর্তমান সরকার যে আন্দোলনের কারণে ক্ষমতায় এসেছে সেই আন্দোলনের সনদ যদি তারা সংস্কার করতে না পারে তাহলে এই সরকারের কোনো দরকার নাই।’