যুক্তরাজ্য (ইউকে) কি তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? স্কটল্যান্ড, ওয়েল্স এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবির মুখে এখন এমনই এক ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়েছে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার। যুক্তরাজ্যের তিনটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল—স্কটল্যান্ড, ওয়েল্স এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার সপক্ষের নেতারা ওয়েল্সের কার্ডিফে এক অভূতপূর্ব শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছেন। সেখানে তারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন, যার মাধ্যমে লন্ডন বা ওয়েস্টমিনস্টারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাধীন গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই তিনটি অঞ্চলেই বর্তমানে স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোর নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও এসএনপি (SNP) নেতা জন সুইনি, ওয়েল্সের প্লেইড কামরির নেতা ও ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইওওয়ের্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইন (Sinn Féin) নেতা ও ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল এ সম্মেলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাথে রয়েছেন আইরিশ বিরোধী দলের প্রধান মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও।
জন সুইনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, "তিনটি অঞ্চলেই এখন স্বাধীনতাপন্থী নেতৃত্ব কাজ করছে। এর পরিষ্কার বার্তা হলো—বর্তমান পরিস্থিতি আর টেকসই নয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে এখন যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। হয়তো ইতিহাস তাঁকে যুক্তরাজ্যের 'সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী' হিসেবে স্মরণ রাখবে।"
অন্যদিকে, রাজনৈতিক এই তোলপাড়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ডাবলিনে এক সফরকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি 'ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড' দেখতে চান। উত্তর আয়ারল্যান্ড যদি যুক্তরাজ্যের অঙ্গরাজ্য থেকে বের হয়ে আয়ারল্যান্ডের সাথে একীভূত হয়, তবে তা একটি অসাধারণ ঘটনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।