দশকের পর দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল 'বাংসামোরো'-তে প্রথমবারের মতো সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘ লড়াই ও শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ভোট গ্রহণকে অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ব্যালটের পথ
২০১৪ সালে ফিলিপাইন সরকার এবং দেশের বৃহত্তম মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট' (MILF)-এর মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী, প্রায় ৪০,০০০ বিদ্রোহী যোদ্ধা অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর বিনিময়ে প্রধানত খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলে মুসলমানদের জন্য 'বাংসামোরো অটোনোমাস রিজিয়ন ইন মুসলিম মিন্দানাও' (BARMM) নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়।
১৯৭০-এর দশক থেকে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
নির্বাচনের বিস্তারিত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভোটার ও আসন: অঞ্চলটির ৫টি প্রদেশ, ৩টি শহর এবং ৬৩টি গ্রামের প্রায় ২৪ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেন। সংসদের ৮০টি আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়।ভোটারের উপস্থিতি: নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন: নির্ধারিত ৮০টি আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা তাঁদের প্রথম অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটির নির্বাহী প্রধান বা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবেন।নিরাপত্তা জোরদার: শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো সংঘাত এড়াতে অঞ্চলটিতে ২০,০০০-এরও বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ভোটের আগের রাতে কোটাবাতো সিটিতে একটি গোলাগুলির ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হলে শহরটিকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এরউইন গার্সিয়া বলেন, “এই নির্বাচন বাংসামোরো জনগণের দীর্ঘদিনের ভূমি, স্বকীয়তা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা বহু ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে।”