NEWSTV24
এক দিনে ৫ জেলায় আটক ১৬৪৫
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জেলায় আটক করা হয়েছে এক হাজার ৬৪৫ জনকে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪৪৫ জন, কুমিল্লায় ৪১৫, চাঁদপুরে ৩৭০, লক্ষ্মীপুরে ২৪৪ ও নোয়াখালীতে ১৭১ জন। আটকদের মধ্যে অধিকাংশকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে ৪৪৫ জন

চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪৪৫ জন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও কোনো থানায় তারা ছিলেন না।পুলিশের এ অভিযান নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কিছু ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নিরীহ তরুণদের হুট করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। সৈয়দপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে আটক হওয়া সন্তোষ নাথ নামের এক কলেজশিক্ষার্থীর বাবা বলেন, সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির গলির মুখে তাঁর ছেলে বিজয় নাথ ছাত্রকে পড়াতে যাওয়ার সময় পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। সে কখনোই কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। পরে রাতে মুচলেকা দিয়ে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন বলে জানান তিনি।

কুমিল্লায় আটক ৪১৫

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪১৫ জনের মধ্যে ২৭৭ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩৮ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ নিয়ে গত তিন দিনের অভিযানে জেলার ১৮টি থানা এলাকা থেকে পুলিশ ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে ৬১৯ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই করে মুচলেকা নিয়ে ৬৭৪ জনকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, মুচলেকা নিয়ে যাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই ছাত্র।কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ক্যাম্পাসে জেলা ডিবি হাজতখানার সামনে সোমবার সকাল থেকে ছেলে মহিউদ্দিনকে (২০) ছাড়িয়ে নিতে আরও দুইজন প্রতিবেশী নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন চাঁন মিয়া। তিনি নগরীর ঝাউতলা এলাকায় রাস্তার পাশে একটি ভাসমান হোটেল পরিচালনা করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জেলার দেবিদ্বার উপজেলার মুগসাইর গ্রামে। দুপুরে তিনি সমকালকে বলেন ছেলেডা ধর্মসাগর পাড়ের একটি ফার্নিচার দোকানে কাজ করে। রাত ১০টার দিকে পুলিশ তাকে ধইরা নিয়া আইছে। তার নামে কোনো মামলা নাই। কেন ধইরা আনছে তাও জানি না।

চাঁদপুরে ৩৭০ জন

চাঁদপুর জেলার সব থানা ও ডিবি পুলিশ সমন্বিতভাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এক দিনের অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করে পুলিশ। চাঁদপুর পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নুর। তিনি জানান, বর্তমানে বহুল আলোচিত কিশোর অপরাধী তথা কিশোর গ্যাং উৎপাটনে অভিভাবকসহ অন্যান্য সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য সারাদেশেই আমাদের পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরে আটক ২৪৪

লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলার ছয়টি থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের দাবি, কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থান, সড়ক, বাজার ও আড্ডাস্থলে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।তবে অভিযানে আটক কিশোরদের মধ্যে নিরপরাধ কেউ রয়েছে কিনা এবং কিশোরদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সমাজসেবা বিভাগের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সদর থানার ওসি পারভেজ ওয়াহেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর থানা এলাকায় ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীতে আটক ১৭১

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ১৭১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১৬০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।গতকাল সোমবার নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।