NEWSTV24
কঠোর পদক্ষেপেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এলপিজির দাম
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে কোথাও কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে দুই হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারে ২৬০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এমন অস্থিরতার কারণে সীমিত আয়ের মানুষ প্রচণ্ড রকম কষ্টে আছে। বাড়তি দামের কারণে অসন্তোষ বাড়ছে ভোক্তাদের মধ্যে।দীর্ঘদিন ধরে এলপিজির বাজারে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। অথচ দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা।

এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগ থেকে সব জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বাজার তদারকি করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি মাসের ৮ তারিখে দেশের অনেকগুলো জেলা থেকে জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা  বলেন, ডিসিদের রিপোর্টগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির চিত্র উঠে এসেছে। কোনো কোনো জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলেও বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য সূত্রে আমাদের সময়কে এই কর্মকর্তা জানান, মানিকগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। এ ছাড়া বগুড়ায় এক হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ১০০, কুমিল্লায় এক হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০, খুলনায় এক হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০, সাতক্ষীরায় এক হাজার ৮৪০ থেকে ২ হাজার ৩০০, ফেনীতে এক হাজার ৮৪০ থেকে এক হাজার ৯৫০ টাকা এবং মাদারীপুরে এক হাজার ৮৪০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা দামে বিক্রির তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে রাঙামাটিতে দাম এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৮৪০, রাজশাহীতে এক হাজার ৮৪০ থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকা এবং বরিশালে এক হাজার ৮২০ থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকায় ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নরসিংদীতে এর দাম ১ হাজার ৮৪০ এবং ঝিনাইদহে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, একই পণ্যের দাম জেলাভেদে এবং একই জেলার মধ্যেও বিক্রেতাভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না : অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধ করতে বিভিন্ন জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধ মজুদের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।মাদারীপুরে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে তিনটি দোকানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রংপুরে একজন ব্যবসায়ীকে একই আইনের ৪০ ধারায় ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বরিশালে অভিযানের সময় একটি মামলা করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় সেপ্টেম্বর মাসে দুটি অভিযানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে সেখানে ১১টি অভিযান পরিচালনার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।