NEWSTV24
তিন মাসে ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সরকারের খরচ অনেক বেড়েছে। বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে। তবে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। এতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ দ্রুত বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যেখানে ঋণ নেওয়ার চেয়ে সরকার পরিশোধ বেশি করেছিল ছয় হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। গত জুলাই থেকে এরিয়ারসহ এ অর্থ দেওয়া হবে। এতে অক্টোবর মাসে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। অবশ্য ব্যাংক খাতে প্রচুর উদ্বৃত্ত অর্থ থাকায় সুদহারে তেমন চাপ নেই। দীর্ঘদিন পর ট্রেজারি বিলের সুদহার কমে ৮ শতাংশের নিচে নেমেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিট ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক হাজার ১৭ কোটি টাকা নেওয়ায় স্থিতি উঠেছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকায়।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। যে কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে জুলাইতে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। কম সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তাতে সাড়া মিলছে না। এ সময়ে অনেক ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে। বাড়তি তহবিল সরকারি বিল, বন্ডে টাকা খাটানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল অনেক ব্যাংক। তবে সরকারের বাড়তি টাকা লাগবে এমন খবরে কমতে থাকা সুদহার আবার বাড়ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের নিলামে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলে সরকার ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ সুদে টাকা নিয়েছে। ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে নিয়েছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ সুদে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে যা কম। চলতি মানে এর আগের নিলামে যা যথাক্রমে ৮ দশমিক ১৩, ৮ দশমিক ৩৭ ও ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ছিল। এর আগের মাসে সুদহার ছিল আরও বেশি।বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে এখন প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। ট্রেজারি বিল, বন্ডে টাকা খাটাতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে অনেক ব্যাংক। যে কারণে বিল, বন্ডের সুদহার কমছে।