NEWSTV24
২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

এসএসসির পর এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। পরীক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা। চলতি বছরের এসএসসির ফলেও পাসের হার ছিল ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে ২০২৫ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩টি। গতকাল বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর এ ফল দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা) ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করেছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এক ও দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ছাড়া আজ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান কেউ যেন অবমূল্যায়িত না হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডগুলোসহ আমরা আগামীদিনে ভালো করার চেষ্টা করব। এবারের রেজাল্টে শিক্ষার্থীদের শেখার যে ঘাটতি ছিল সেটা পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামীদিনে আমরা এ সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।এসএসসির ফল পুনর্মূল্যায়নে প্রায় ৪৫ হাজার পরীক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন, প্রায় ৫ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস এবং ৩ হাজারের বেশি জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা সামনে এনেছে। এইচএসসি পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া পরীক্ষকদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা শতভাগ নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জিপিএ-৫ বা পাসের হার বাড়ানোর যে কৃত্রিম সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মেধার যথাযথ মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ জন্য সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর সব শিক্ষা বোর্ডে মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৮৮টি।

২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি। আগের চেয়ে শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি, যা আগের চেয়ে কমেছে ২০৬টি। শূন্যপাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে, মোট ৫৭টি। শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা বোর্ডে, ৫২টি। ঘোষিত ফলাফলে, ৯টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৪৮ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় সব বোর্ডেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে। এ বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমে ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন। গত বছর আলিমে ৪ হাজার ২৬৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। একই সঙ্গে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৩০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ২৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯২ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি বিএম-ভোকেশোনাল পরীক্ষায় ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১০ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে। এ বছর বিদেশে অবস্থিত আটটি কেন্দ্রে ২৩০ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২০৯ জন। শতকরা পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২১ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১, শূন্যপাস প্রতিষ্ঠান নেই।এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছেন মোট ৫১০ জন। সবচেয়ে বেশি ১১৮ জন বহিষ্কার হয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, সবচেয়ে কম ১৪ জন বহিষ্কার হয়েছেন বরিশাল বোর্ডে।। গত বছর বহিষ্কার হয়েছিল ৫৭৭ জন। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়। গত ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হয়। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পেছানো হয়। পরে সে পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ৯ সেপ্টেম্বর।