NEWSTV24
অর্থনীতির দুই সূচক ইতিবাচক ধারায়
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুই উৎস- প্রবাসী আয় ও পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি ডলার। এ আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও এই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ধারায় পরিণত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, নতুন শ্রমবাজার তৈরি, বিদেশে কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সংকট মোকাবিলা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব পণ্যের রপ্তানি কমেছে, সেসব খাতের সমস্যাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি ডলার। এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার বা ৬ শতাংশ।

অক্টোবরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৮৭ কোটি ডলার : অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। শেষ তিন দিনেই এসেছে ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় এলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ে। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সামলানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে পোশাক থেকে : রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান তৈরি পোশাক খাতের। এই চার মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৭১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৪.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি ডলারে। দুই ধরনের পোশাক মিলিয়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮০.৪ শতাংশ এসেছে এ দুই উপখাত থেকে। চার মাসে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৮১ শতাংশের অবদান তৈরি পোশাক খাতের। অর্থাৎ দেশের রপ্তানি আয় এখনও অনেকাংশে পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং উৎপাদন সক্ষমতার ওপর এ খাতের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের গতিও অনেকটা নির্ভর করছে।

পাট, চামড়া ও রাসায়নিক পণ্যে সম্ভাবনা : রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক চিত্রের আরেকটি দিক হলো - পোশাকবহির্ভূত কয়েকটি খাতের ভালো প্রবৃদ্ধি। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে কয়েকটি অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানির অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চার মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৩.৮ শতাংশ; আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭ শতাংশ; আয় এসেছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৭.৩ শতাংশ; আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে ৭.৪ শতাংশ এবং পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ৯.৭ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল থেকে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং পাদুকা থেকে ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। পাট, চামড়া, রাসায়নিক পণ্য ও পাদুকার মতো খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়াতে উৎপাদনের মান, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান সনদের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি এবং নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগও প্রয়োজন।

কৃষি ও মৎস্যপণ্যে কমেছে রপ্তানি : রপ্তানি আয়ের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও সব খাতের চিত্র এক রকম নয়। কয়েকটি পণ্যে রপ্তানি কমেছে। উল্লিখিত সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ১৩.৫ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি কমেছে ১০.৯ শতাংশ; আয় এসেছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। অন্যদিকে তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে ১০.২ শতাংশ; আয় হয়েছে ১৭ কোটি ডলার। এ ছাড়া কাগজ ও কাগজজাত পণ্যের রপ্তানিও কমেছে ১৮.২ শতাংশ। ফলে একদিকে কয়েকটি পণ্যে ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও অন্যদিকে কিছু খাত পিছিয়ে পড়ছে।

শক্তিশালী অবস্থানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ : প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দিনশেষে দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার; আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৩৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি থেকে ডলারের প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি রিজার্ভের এই অবস্থান বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে।