বিএনপিকে বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না : কাদেরকল্যাণপুরে বস্তিতে আগুন, দগ্ধ ২করোনায় ১০০ চিকিৎসকের মৃত্যুমাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানেশক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক; নিহত ২০, আহত ৭ শতাধিক
No icon

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা ভেঙ্গে রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা ভেঙ্গে রাজধানী ব্যাংককের রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে তারা আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। এ ছাড়া ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘তিন আঙ্গুল স্যালুট’ প্রদর্শন করেছে। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন। বিক্ষোভকারীরা রাজার ক্ষমতা খর্ব ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে থাইল্যান্ডে গত কয়েক দিন ধরে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জরুরি অবস্থার ডিক্রি জারি করে থাই সরকার। জরুরি অবস্থা কার্যকর হওয়ার পরপরই দাঙ্গা পুলিশ প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চার কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। সেখান থেকে অন্তত ২০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজন নেতাও রয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা রাজকীয় মোটর শোভাযাত্রাকে চ্যালেঞ্জ জানানো ও ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ চলচ্চিত্র থেকে নেয়া ‘তিন আঙুলের’ অভিবাদন প্রদর্শন করেছেন, যা দেশটিতে অতি শ্রদ্ধেয় রাজার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অবাধ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৪ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ও-চা।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে জরুরি ফরমান ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে রাতে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করা কট্টর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে যায় দাঙ্গা পুলিশ।

মানবাধিকারকর্মী পানুসায়া সিথিজিরাওত্তানাকুল বলেন, আটক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রনেতা প্যারিট চিওয়ারাক রয়েছেন। যিনি ‘পেঙ্গুইন’ নামেই বেশি পরিচিত।

পরবর্তী সময় ফেসবুকে প্রচারিত এক লাইভ স্ট্রিমে দেখা গেছে, পানুসায়াকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় সমর্থকরা তার দীর্ঘ জীবন কামনা করে স্লোগান দেন। আর ‘তিন আঙুলের’ সেই অভিবাদন প্রদর্শন করেন।

সরকারি মুখপাত্র বলেন, জরুরি পদক্ষেপ অনুসারে চারজনের বেশি লোক জড়ো হতে পারবেন না। বৈদ্যুতিক যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, ডেটা ও অস্ত্র সরকার জব্দ করে নিয়ে যেতে পারবে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেয়, এমন কোনো খবর বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্যাংককের গণতন্ত্র স্মৃতিসৌধে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় সেখান দিয়ে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন ও তার পরিবারকে বহনকারী মোটর শোভাযাত্রা যাচ্ছিল।

যখন রাজার গমন পথে কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ ঘিরে রাখে, তখন সেখানে থাকা আরও কয়েক ডজন প্রতিবাদী রাজপরিবারকে ‘তিন আঙুলের’ অভিবাদন দেখান। এ সময় রানি সুথিদাকে লিমোজিনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে রাজপরিবারের প্রতি এমন প্রকাশ্য অবাধ্যতা আরও কখনও ঘটেনি। যেখানে দেশটির সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজপরিবারের প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।

এ ঘটনার পর থাইল্যান্ডের রাজপরিবারপন্থী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। দেশটিতে রাজা খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও কোটিপতি গোত্রগুলোও তাকে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, আমরা কেবল রাজতন্ত্রকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বলেছি। তারা রাজপরিবার অবমাননা আইনও বাতিল দাবি করেছেন।

এই আইন রাজাকে সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে রেখেছে। এ ছাড়া রাজপরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে তাদের দাবিতে।